ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়া সদস্যদের অধিকাংশই চীনের সমালোচক হিসেবে পরিচিত, যাদের প্রায়ই ‘চায়না হুক’ বলা হয়। তারা চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখেন, বিশেষ করে বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার মতো ক্ষেত্রে কঠোর নীতির জন্য। ট্রাম্প চীনা পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের সংঘাতময় মনোভাব মোকাবেলায় চীন এবার আরো ভালোভাবে প্রস্তুত রয়েছে। বেইজিং ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি মোকাবেলা করার দিকে মনোনিবেশ করতে পারে, কারণ তিনি অর্থনৈতিক বিষয়গুলোয় আরো মনোনিবেশ করেছেন এবং চুক্তি করার জন্য উন্মুক্ত হতে পারেন। বিপরীতে ট্রাম্পের উপদেষ্টারা চীনের সামরিক ও নিরাপত্তা হুমকি নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। খবর সিএনএন।
ট্রাম্প মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে একজন চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আরেকজন চীনকে মোকাবেলায় সমাজের সবাইকে একযোগে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন এবং বেইজিং দুবার তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তৃতীয় আরেকজন দাবি করেন, চীনের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করতে মনোনিবেশ করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এবার ট্রাম্প ও তাকে ঘিরে থাকা চীনা সমালোচকদের মোকাবেলা করতে দেশটি যথেষ্ট প্রস্তুতি নিচ্ছে। বেইজিং ইলোন মাস্কের মতো ট্রাম্প সমর্থকদের মধ্যে যারা চীন-বান্ধব তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করতে পারে চীন।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় চীনা পণ্যের ওপর ৬০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রতিশ্রুতি দেন। চলতি সপ্তাহে তিনি বলেছেন, বিদ্যমান সব শুল্কের বাইরে চীনা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন তিনি। তবুও চীনের পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের অধীনে সম্পর্কের অবনতি হতে পারে তেমন কোনো আশাবাদ ব্যক্ত করেননি।
ওয়াশিংটনে স্টিমসন সেন্টারের চীন প্রোগ্রামের পরিচালক ইউন সান বলেন, ‘আপনি যদি ট্রাম্পের দলের দিকে তাকান, সবাই না হলেও বেশির ভাগই “চীন হুক”। নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতাকে নতুন স্তরে আনতে একটি কঠোর নীতি অনুসরণ করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। আমি মনে করি না যে বেইজিং এগুলোর কোনোটিকেই ভালো খবর হিসেবে দেখছে।’ তবে চীনের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক কিছু চিন্তাবিদ মনে করেন, নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট শেষ পর্যন্ত চীনের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে চান এবং তার মন্ত্রিসভায় চীনের সমালোচক সত্ত্বেও তিনি আরো নমনীয় হতে পারেন।
জন হপকিন্স স্কুল অব অ্যাডভান্সড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের অধ্যাপক হ্যাল ব্র্যান্ডস বলেন, ‘ট্রাম্প মূলত চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার দিকে মনোনিবেশ করেছেন। যদিও তার নতুন প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা, যেমন জাতীয় সুরক্ষা কাউন্সিল ও প্রতিরক্ষা চীনের সামরিক ও সুরক্ষা হুমকি সম্পর্কে আরো উদ্বিগ্ন। মূল প্রশ্ন হলো, ট্রাম্পের চীন বিষয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক অবস্থান কি নিরাপত্তা সম্পর্কিত নীতিমালা তৈরি করতে সাহায্য করবে, নাকি ট্রাম্পের নিরাপত্তাবিষয়ক আগ্রহ কম থাকায় তা কঠিন হবে?’
সাংহাইয়ের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর আমেরিকান স্টাডিজের পরিচালক উ জিনবো বলেন, ‘বেইজিংয়ের জন্য ট্রাম্পের কট্টর উপদেষ্টাদের ও স্বয়ং নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের মধ্যে পার্থক্য করা গুরুত্বপূর্ণ। কট্টরপন্থীদের অনেকেই চায় চীনের সঙ্গে পূর্ণ সংঘাত ও বিচ্ছিন্নতা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের আসল উদ্দেশ্য কি এটাই? তা না হলে তাদের নীতিগত পদক্ষেপের ক্ষেত্রে ট্রাম্প নিজেই সংযত করতে পারেন।’










