জাপান সাগরে রাশিয়া ও চীনের নৌবাহিনী কামান নিক্ষেপ ও সাবমেরিনবিরোধী সামরিক মহড়া চলছে। দুই দেশের পূর্বনির্ধারিত যৌথ সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে এটি শুরু করা হয়েছে। রোববার রাশিয়ান প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের সূত্রে ইন্টারফ্যাক্সের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
মহড়াটি এমন সময় শুরু হয়েছে, যখন এর মাত্র দুদিন আগে রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের উসকানিমূলক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার কাছাকাছি সমুদ্র অঞ্চলে দুটি পারমাণবিক সাবমেরিন মোতায়েনের নির্দেশ দেন। অবশ্য রাশিয়া ও চীনের মহড়াটি ট্রাম্পের নির্দেশের অনেক আগেই নির্ধারিত ছিল।
ইন্টারফ্যাক্স জানায়, রাশিয়া ও চীনের নৌজাহাজগুলো একত্রে সমুদ্রপথে এগিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি রাশিয়ান বড় অ্যান্টি-সাবমেরিন যুদ্ধজাহাজ ও চীনের দুটি ডেস্ট্রয়ার (বিধ্বংসী জাহাজ)। দুই দেশের ডিজেল-চালিত সাবমেরিনও এতে অংশ নিচ্ছে। পাশাপাশি একটি চীনা সাবমেরিন উদ্ধারকারী জাহাজও যুক্ত করা হয়েছে। মহড়ার নাম দেয়া হয়েছে ‘মেরিটাইম ইন্টারেকশন ২০২৫’। এটি আগামীকাল শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। মহড়ায় সমুদ্রপথে কামান নিক্ষেপ, অ্যান্টি-সাবমেরিন ও বিমান প্রতিরক্ষা অভিযান অনুশীলন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যৌথভাবে শত্রুপক্ষের তৎপরতা অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনার দক্ষতাও বাড়ানো হবে।
উল্লেখ্য, রাশিয়া ও চীন ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আগে একটি ‘কৌশলগত সীমাহীন অংশীদারত্ব’ চুক্তি স্বাক্ষর করে। তখন থেকেই দুই দেশ নিয়মিত যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনা করে আসছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে উভয় দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো ও সম্ভাব্য প্রতিপক্ষদের প্রতি একটি প্রতিরোধমূলক বার্তা দেয়া।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, রাশিয়ান নেতা মেদভেদেভের চরম উসকানিমূলক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি পারমাণবিক সাবমেরিন মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন।
বিশ্বে সবচেয়ে বড় পারমাণবিক শক্তিধর সাবমেরিন ব্যবস্থা রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের। দুই দেশের মধ্যে এ ধরনের সাবমেরিনের অবস্থান ও মোতায়েন নিয়ে প্রকাশ্যে নির্দেশ দেয়ার ঘটনা খুবই বিরল। বিশ্বজুড়ে আলোচিত ট্রাম্পের ওই মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি হতাশ হন এবং পাশাপাশি মস্কোর প্রতি তার অসন্তুষ্টিও বৃদ্ধি পায়।










