ফিলিপাইনে রোববার আঘাত হেনেছে সুপার টাইফুন ‘ম্যান-ই’। এতে দুই সপ্তাহেরও কম সময়ে দেশটিতে আঘাত হানে চারটি টাইফুন। খবর সিএনএন।

স্থানীয়ভাবে পেপিতো নামে পরিচিত সুপার টাইফুন ম্যান-ই শনিবার রাতে দ্বীপ প্রদেশ কাতানদুয়ানেসের উপকূলে আঘাত হানে। এরপর সমুদ্রের মধ্য দিয়ে লুজনের প্রধান দ্বীপ উপকূলের দিকে অগ্রসর হয়। সরকারের আবহাওয়া সংস্থা পিএজিএএসএ জানিয়েছে, রোববার বিকালে দ্বিতীয় আঘাত হানতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের হ্যারিকেন ডাটাবেজের বিশ্লেষণ অনুসারে, দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ম্যান-ই ফিলিপাইনে আঘাত হানা চতুর্থ টাইফুন এটি। ঝড়টির গতিপথ আগের তিনটি টাইফুনের চেয়ে আরো দক্ষিণে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে এটি আরো অনেক বেশি মানুষকে প্রভাবিত করবে।

পিএজিএএসএ জানিয়েছে, দেশের অর্ধেকেরও বেশি জনসংখ্যার আবাসস্থল লুজনের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় ম্যান-ই উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এটি এখনো ‘‌সম্ভাব্য বিপজ্জনক ও প্রাণঘাতী পরিস্থিতি’ তৈরি করছে বলে রোববার বিকালে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

পিএজিএএসএর তথ্যমতে, কেন্দ্রের কাছে ম্যান-ইয়ের বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার (প্রায় ১১৫ মাইল) এবং দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ২৩০ কিলোমিটার (১৪৩ মাইল) পর্যন্ত, যা ক্যাটাগরি ৩ হ্যারিকেনের সমতুল্য।

ফিলিপাইন প্রতি বছর অনেক ঝড়ের মুখোমুখি হয়। কিন্তু গত মাসে কয়েকটি টাইফুন আঘাত হানার ফলে উদ্ধার ও পরবর্তী কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। হাজার হাজার মানুষ এখনো আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছে।

টাইফুন ইনশিং গত সপ্তাহে ফিলিপাইনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানে, যার বাতাসের গতিবেগ ছিল ক্যাটাগরি ৪ আটলান্টিক হ্যারিকেনের সমান। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ঝড়ের কারণে মুষলধারে বৃষ্টি, জলোচ্ছ্বাস ও ভূমিধস দেখা দেয়।

ম্যান-ইয়ের আগে লুজনের বিকোল অঞ্চল থেকে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে শনিবার ডিজেডআরএইচ রেডিওকে জানিয়েছেন এক দুর্যোগ কর্মকর্তা। এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফিলিপাইনের সরকার পরিচালিত নিউজ এজেন্সি (পিএনএ) জানিয়েছে, শুক্র ও শনিবার উত্তরাঞ্চলীয় সামার প্রদেশ থেকে অন্তত ২৬ হাজার লোককে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। পূর্বাঞ্চলীয় সামার ও সামার প্রদেশ থেকে আরো ১৮ হাজার মানুষকে আগেই সরিয়ে নেয়া হয়।