স্পেন প্রায় ৭০ বছর পর ভয়াবহ বন্যার সম্মুখীন হয়েছে। গত ২৯ অক্টোবর প্রবল বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট আকস্মিক এ বন্যায় পূর্বাঞ্চলের ভ্যালেন্সিয়া প্রদেশসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে। সরকারের বিরুদ্ধে দেরিতে সতর্কবার্তা দেয়া ও জরুরি উদ্ধারকাজ শুরুর অভিযোগ রয়েছে। তবে এ ধাক্কা কাটিয়ে সহযোগিতা করতে প্রতিদিন অনেকেই এগিয়ে আসছেন। খবর বিবিসি।
শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি জাদুঘর ভবনে অনেক স্বেচ্ছাসেবককে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তারা বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোয় যাওয়ার জন্য বালতি, খাবার ও পানির মতো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করছিলেন। শনিবার সকালে উদ্ধার ও পরিচ্ছন্নতার কাজে অন্তত ১৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক উপস্থিত হন। তাদের মধ্যে অনেকেই জানান যে কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি।
১৬ বছর বয়সী পেদ্রো ফ্রান্সিসকো ৪ ঘণ্টা ধরে বাবা-মায়ের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে সাহায্যের জন্য মরিয়া হয়ে অপেক্ষা করছিলেন। তিনি বলেন, বন্যায় তার বন্ধুর দাদা মারা গেলেও এখন পর্যন্ত তিনি লাশ উদ্ধার করতে পারেননি। আমাদের যা কিছু করা সম্ভব তা করতে হবে।
ভ্যালেন্সিয়া ও এর আশপাশের এলাকায় এখন পর্যন্ত ২১১ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। বন্যা-পরবর্তী পানি নেমে গেছে। কিন্তু ধ্বংসযজ্ঞ কাটিয়ে উঠতে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি মাসও লেগে যেতে পারে। ভ্যালেন্সিয়ার মহাসড়কগুলো এখনো অবরুদ্ধ বা আংশিক ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় আছে। অনেক সড়ক বন্যায় প্লাবিত হওয়ায় এখনো যানবাহন আটকে আছে। স্পেনের রেল কর্তৃপক্ষ আদিফ জানিয়েছে, রেললাইন এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে কয়েক সপ্তাহে ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
গত ২৯ অক্টোবর রাত ৮টা নাগাদ জনসাধারণকে বাড়ির ভেতর থাকতে বলে মোবাইলে সতর্কবার্তা দেয়া হয়। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। বিশেষ করে ভাটি অঞ্চলের বাসিন্দারা আরো আগে সতর্কবার্তা পেলে পূর্বপ্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পেত।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিবৃতিতে ত্রাণকাজে সহায়তার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, উদ্ধার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় সহায়তায় এরই মধ্যে ২ হাজার ৫০০ জনকে মোতায়েন করা হয়েছে। এর সঙ্গে আরো পাঁচ হাজার জনকে নিযুক্ত করা হয়েছে।










