দক্ষিণ কোরিয়ার মুয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রোববার (২৯ ডিসেম্বর) ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৭ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির ন্যাশনাল এজেন্সি। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে ১৭৫ জন যাত্রী এবং ছয়জন ক্রুসহ দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের ওই বিমানবন্দরে অবতরণের সময় জেজু এয়ারের ফ্লাইট ৭সি২২১৬-তে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ২ জন ক্রু সদস্যকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়োনহাপ সংবাদ সংস্থা। খবর রয়টার্স।

tears 2

মুয়ান দমকল বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। ১৬৭ জনের নিহত হওয়ার খবর এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, বিমানটির পেছনের অংশে উদ্ধার কাজ চলছে।

যাত্রীদের আত্মীয়স্বজনরা বিমানবন্দরে গিয়েছে। এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে সেখানে। নিহত যাত্রীদের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন স্বজনরা।

tear

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, ডাবল ইঞ্জিন বিশিষ্ট বিমানটি রানওয়ে দিয়ে অনেকটা গড়িয়ে যেতে থাকে, যেখানে অবতরণের কোনো যন্ত্র কার্যকর থাকতে দেখা যায়নি। বিমানটি গিয়ে দেয়ালে ধাক্কা দেয়। এতে আগুন লেগে যায় বিমানে এবং ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়। অন্য ছবিতে দেখা যায়, বিমানের কিছু অংশ ধোঁয়া ও আগুনে আচ্ছন্ন।

দক্ষিণ কোরিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে পাখির সঙ্গে সংঘর্ষের সতর্কতা সতর্কতা জারির কিছুক্ষণ পরেই পাইলটরা 'মেডে সংকেত' দেয়। তার প্রায় এক মিনিট পরেই বিমানটির অবতরণের চেষ্টা করা হয়।

বিমানটির কোনো পাখির সঙ্গে ধাক্কা লেগেছিল কিনা তা ওই কর্মকর্তা নির্দিষ্ট করে বলেননি। তবে বিমানের ব্ল্যাক বক্সগুলো উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

অ্যাভিয়েশন ট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটরাডার২৪ জানায়, বিমানটি সম্ভবত একটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০। বোয়িং কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

মার্কিন ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) কাছ থেকেও এ বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে পাওয়া যায়নি।

দক্ষিণ কোরিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট চোই সাং-মক সর্বাত্মক উদ্ধার প্রচেষ্টার নির্দেশ দিয়েছেন বলে তার কার্যালয় জানিয়েছে। তার প্রধান সচিব জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছেন।

জেজু এয়ারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, বিমান সংস্থা ঘটনাগুলো যাচাই করে দেখছে।