দক্ষিণ কোরিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হান ডাক-সুকে গতকাল পার্লামেন্টে অভিশংসিত করা হয়েছে। দায়িত্ব নেয়ার মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় তাকে অভিশংসিত করা হলো। ১৪ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়। এরপর দেশটির প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সুক ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। খবর রয়টার্স।

গত ৩ ডিসেম্বর এক জরুরি টেলিভিশন ভাষণে ইউন সুক-ইওল স্বল্প সময়ের জন্য সামরিক আইন জারি করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশটিতে রাজনৈতিক টালমাটাল অবস্থার সৃষ্টি হয়। পার্লামেন্টে দুই দফায় ভোটের মাধ্যমে তাকে পরবর্তী সময়ে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার সাংবিধানিক আদালতে ইউন সুক-ইওল ও হান ডাক-সুকের অভিশংসনের মামলা বর্তমানে চলতে থাকবে। এ অবস্থায় ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী চোই সাং-মোক। তিনি জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের বৈঠক ডেকেছেন। পাশাপাশি সামরিক নেতাসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং দেশকে স্থিতিশীল করতে সম্ভাব্য সবকিছু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

অপ্রত্যাশিত সামরিক আইন জারি এবং পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা এশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে দেশটির মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এ মিত্ররা চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়াকে মোকাবেলা করার প্রচেষ্টায় প্রেসিডেন্ট ইউনকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখে এসেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হানের আকস্মিক অভিশংসন অনিশ্চয়তা আরো বাড়িয়ে তুলেছে। অন্যদিকে চোই যদি বিরোধী নেতৃত্বাধীন পার্লামেন্টের সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হন তবে তিনিও অপসারণের মুখোমুখি হতে পারেন।

চোই বলেন, ‘জনগণ যাতে উদ্বিগ্ন না হয়ে পড়ে কিংবা দেশ ও মানুষের দৈনন্দিন জীবন যাতে বিঘ্নিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে সরকারকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।’ এর আগে চোই হানকে অভিশংসিত না করার জন্য পার্লামেন্টে আবেদন করে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে এর মধ্য দিয়ে অর্থনীতির ক্ষতি হবে। তবে তার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।