যুক্তরাজ্যের
সাউথপোর্টের এক নৃত্যকর্মশালায় ছুরিকাঘাতে তিন শিশুর মৃত্যুর পর হামলাকারীর পরিচয়
সংক্রান্ত ভুয়া তথ্যকে কেন্দ্র করে চলা দাঙ্গায় জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার
হয়েছেন ৭৭৯ জন। এছাড়া ৩৪৯টি মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল পুলিশ
চিফস কাউন্সিল (এনপিসিসি)। খবর বিবিসি।
গত ২৯ জুলাই ইংল্যান্ডের উত্তর–পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর সাউথপোর্টের হার্ট স্ট্রিটে টেইলর সুইফট
ইয়োগা ও নাচের কর্মশালায় ছুরি হামলার ঘটনা থেকেই এই দাঙ্গার সূত্রপাত। ওই হামলায়
তিন শিশুর মৃত্যু ছাড়াও আট শিশু এবং দু'জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি গুরুতর জখম হন। আহতরা এখনো
সঙ্কটজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
এ ঘটনার পর রটে যায়
যে,
আক্রমণকারী একজন শরণার্থী মুসলিম,
যিনি নৌকায় চেপে আশ্রয়ের জন্য যুক্তরাজ্যে এসেছিলেন। এ
গুজবের পর যেসব হোটেলে শরণার্থীরা আশ্রয় নিয়েছিলেন সেসবে হামলা হয়। লুটপাট করা
হয় বেশ কিছু দোকান। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ ও দাঙ্গার
লক্ষ্যবস্তু হয়েছে মূলত মুসলিম এবং অভিবাসীরা।
এ দাঙ্গার প্রতিবাদে
গতকাল শনিবার (১০ আগস্ট) হাজার হাজার বর্ণবাদ বিরোধী বিক্ষোভকারী বিভিন্ন শহরে
সমাবেশ করেছে। বেলফাস্ট, বার্মিংহাম, কার্ডিফ,
গ্লাসগো এবং লন্ডনসহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ
রাস্তায় নেমেছে। নরউইচ, পেনজান্স, সাউদাম্পটন,
শ্রুসবারি, কার্লাইল, হেস্টিংস, কেমব্রিজ এবং ডেভনে গতকাল জড়ো হয়েছিল শত শত বর্ণবাদ
বিরোধী বিক্ষোভকারী।
যুক্তরাজ্যের
প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার দাঙ্গার বিষয়ে সরকারের জোরালো প্রতিক্রিয়া
জানাতে তার পারিবারিক গ্রীষ্মকালীন ছুটি পিছিয়ে দিয়েছেন।
বিক্ষোভের আয়োজক ইউনাইটেড অ্যাগেইনস্ট রেসিজম বলেছে যে, এই প্রতিবাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে—সাম্প্রতিক সময়ে বর্ণবাদী সহিংসতার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিক্রিয়া দেখানো। সংগঠনটির চেয়ার ফিওনা ডোরান বলেছেন, আমরা কোনো বর্ণবাদী শক্তির কাছে পরাজয় স্বীকার করব না যারা আমাদের বিভক্ত করতে চায়।










