প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যায় দক্ষিণ কোরিয়ার অন্তত ২০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। কয়েক হাজার মানুষ ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। খবর বিবিসি।

টানা তিনদিন দেশটির মূল অংশে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভূমিধসের হার বাড়ছে এবং উত্তর চুংচেং প্রদেশের একটি বাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করছে। ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে দেশটির বিভিন্ন অংশের রাস্তা তলিয়ে গেছে। সড়ক ও রেলপথে যোগাযোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দেশটির সরকারি সূত্রে জানা যায়, আরো ১০ জন নিখোঁজ রয়েছে এবং কয়েক হাজার মানুষকে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে।

উত্তর জিওংসাং প্রদেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানকার পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের কারণে অনেক ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের রক্ষার্থে সহায়তা করার জন্য সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী হ্যান-ডাক-সু।

প্রশাসন জানায়, চুংচেং প্রদেশের কেন্দ্রে থাকা একটি আন্ডারগ্রাউন্ড টানেলের নিচে ১৯টি গাড়ি ডুবে গেছে। সেগুলো উদ্ধার করা না গেলে প্রাণহানির সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। জানমালের নিরাপত্তায় ঘর ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে বিভিন্ন স্থানীয় প্রশাসন। গোসান বাঁধ উপচে পানি আসা শুরু হলে সাড়ে ছয় হাজারের কাছাকাছি অধিবাসীকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম ইয়োনহাপের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

কোরিয়ার জাতীয় পর্যায়ের রেল যোগাযোগ কোম্পানি কোরেইল এক ঘোষণায় সব ধরনের সাধারণ ও বুলেট ট্রেন যোগাযোগ বন্ধের কথা জানায়। অন্যান্য বুলেট ট্রেন পরিষেবাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর।