ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানিকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের

ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি এ তথ্য জানান। তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। খবর আল জাজিরা।

সবশেষ গত শুক্রবার তেহরানে বার্ষিক আল-কুদস দিবসের মিছিলে তাকে দেখা গিয়েছিল। মিছিলে অংশ নেয়া অবস্থায় ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে লারিজানি বলেন, র‍্যালির সময় যে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে তা ইরানের শত্রুদের হতাশার লক্ষণ। তিনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, এ হামলাগুলো ভয় এবং চরম হতাশা থেকে করা হয়েছে। যারা শক্তিশালী, তারা কখনোই মিছিলে বোমা হামলা চালায় না। এটা পরিষ্কার যে তারা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ট্রাম্প এটা বুঝতে পারছেন না, ইরানি জনগণ সাহসী, শক্তিশালী এবং সংকল্পবদ্ধ জাতি। তিনি যত বেশি চাপ সৃষ্টি করবেন, এ জাতির সংকল্প তত দৃঢ় হবে।

ইরানের শাসনব্যবস্থায় কয়েক দশক ধরে একজন শান্ত ও বাস্তববাদী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত আলী লারিজানি। তিনি দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে দেশের কৌশল নির্ধারণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

১৯৫৮ সালে ইরাকের নাজাফের আমল অঞ্চলে এক অভিজাত পরিবারে জন্ম নেন লারিজানি। এ পরিবারকে এক সময় টাইম ম্যাগাজিন 'ইরানের কেনেডি পরিবার' হিসেবে বর্ণনা করেছিল। তার বাবা ছিলেন বিশিষ্ট ধর্মীয় পণ্ডিত। ২০ বছর বয়সে দেশটিতে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লাহ খোমেনির ঘনিষ্ঠ সহচর মুর্তজা মোতাহারির কন্যা ফরিদেহ মোতাহারিকে বিয়ে করেন তিনি।

১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর তিনি আইআরজিসি যোগ দেন এবং পরবর্তীতে সরকারি প্রশাসনে প্রবেশ করেন। এ সময় প্রথমে সংস্কৃতি মন্ত্রী এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।