দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা লি জে-মিউং ও ক্ষমতাসীন পিপল পাওয়ার পার্টির (পিপিপি) প্রধান হান ডং-হুনকে আটক করতে চেয়েছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল। মঙ্গলবার তিনি যখন সামরিক আইন জারি করেন তখন অন্যান্য দলের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদেরও গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। এ তালিকায় ছিলেন তিনজন বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতাও।
গতকাল দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক দলগুলোর জরুরি বৈঠকের পর বিষয়টি সামনে আসে। দেশটির জাতীয় গোয়েন্দা দপ্তরের উপপরিচালক হং জ্যাং-ওনকে উদ্ধৃত করে এক খবরে এ কথা জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
ছয়টি দল নিয়ে গঠিত বিরোধী দলগুলোর জোট গত বুধবার প্রেসিডেন্টের অভিশংসন চেয়ে পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব জমা দিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট ইউনের বিরুদ্ধে আজ অভিশংসন ভোট আয়োজন করার কথা রয়েছে। অভিশংসন কার্যকর করতে ৩০০ সদস্যের পার্লামেন্টে প্রস্তাবের পক্ষে অন্তত দুই তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ ২০০টি ভোট পড়তে হবে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজন পড়বে ক্ষমতাসীন দলের আটজন সদস্যের ভোটও। যদিও দ্বিধাবিভক্ত ক্ষমতাসীন দল এরই মধ্যে অভিশংসনের পক্ষে ভোট না দেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সংসদ সদস্যরা এ ধরনের প্রস্তাবের পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট দিতে পারেন। সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, সরকারি দলের আইনপ্রণেতাদের সেলফোনে মেসেজ পাঠিয়ে অভিশংসনের পক্ষে ভোট দেয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
সরকারি দল থেকে অভিশংসনের পক্ষে ভোট না দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হলেও শুক্রবার দলটির প্রধান হান ডং-হুন বলেন, ‘প্রেসিডেন্টকে সরানো না হলে দক্ষিণ কোরিয়া বড় ধরনের সংকটে পড়বে। যদি প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে সরানো না হয়, তাহলে দেশের জনগণ বড় বিপদে পড়বে। সামরিক আইন জারি করার মতো ঘটনা আবারো ঘটতে পারে।’
সামরিক আইন বাস্তবায়নের চেষ্টার অভিযোগে দেশটির বিশেষ বাহিনীর কমান্ডার কওয়াক জং-কুয়েনসহ তিনজন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট। যদিও সামরিক আইন জারির পর সেটি বাস্তবায়নে অস্বীকৃতি জানানোর দাবি করে কওয়াক বলেছেন, ‘আমি সেনাদের সংসদে প্রবেশ করতে বাধা দিয়েছি এবং সংসদ সদস্যদের সংসদে প্রবেশে বাধা দিতে নিষেধ করেছি। একই সঙ্গে কাউকে গ্রেফতার, সংঘর্ষ বা গুলি চালাতেও নিষেধ করেছি। যখন সংসদ সদস্যরা সামরিক আইন বাতিলের দাবিতে ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, আমি তখন তাদের সরিয়ে দেয়ার আদেশ প্রত্যাখ্যান করি। আমি সেনাদের নির্দেশ দিয়েছি, তারা যেন সংসদ সদস্যদের ভেতরে প্রবেশে বাধা না দেন।’
এদিকে চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলের প্রতি সমর্থন কমেছে। গতকাল প্রকাশিত গ্যালাপ কোরিয়ার জরিপ বলছে, এ সপ্তাহের শুরুতে প্রেসিডেন্টের প্রতি সমর্থনের হার ছিল ১৬ শতাংশ, এখন তা ১৩ শতাংশে নেমেছে।










