দক্ষিণ গাজা উপত্যকার খান ইউনিসের বাসিন্দাদের রাতের মধ্যেই এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। চারপাশে ট্যাংকের গোলাগুলির বিস্ফোরণে রাতের অন্ধকারে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে ফিলিস্তিনিরা। খবর রয়টার্স।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট এবং ওই এলাকার বাসিন্দাদের ফোনে মেসেজ ও অডিও বার্তা পাঠিয়ে এ নির্দেশনা দেয় ইসরায়েল। এক্সের পোস্টে বলা হয়, আপনাদের নিরাপত্তার জন্য অবশ্যই এ এলাকা থেকে অবিলম্বে সরে যেতে হবে। আপনি যে এলাকায় আছেন, সেটি একটি বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের কেন্দ্র, পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলের ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেয়ার আদেশটি ১০ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় আদেশ। রয়টার্সের তথ্যমতে, এর আগে ১০ আগস্ট শহরের একটি স্কুলে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বিমান হামলায় শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। বেসামরিক প্রতিরক্ষা পরিষেবার তথ্যমতে, এ ঘটনা আন্তর্জাতিক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ ঘটনায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলছে, তারা হামাসের স্থাপনার ওপর আক্রমণ করেছে। তাদের অভিযোগ, হামাস এ এলাকাগুলো ইসরায়েলের ওপর আক্রমণ ও রকেট নিক্ষেপের জন্য ব্যবহার করছিল। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামাসের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে প্রায় ৩০টি হামলা চালিয়েছে তারা।
এদিকে গাজা উপত্যকার স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ নেয়া উচিত ইসরায়েলের। এমনটাই মত দিয়েছেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গির। গতকাল কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করে এ মতামত প্রকাশ করেন বেন-গির।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা ও উদ্যোগের বিরুদ্ধাচরণ করেন তিনি। জানান, হামাসকে ‘ধ্বংস করতে হবে’, যাতে তারা ‘পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করে’।
তিনি হিব্রু ভাষায় লিখিত পোস্টে দাবি করেন, হামাসের হাতে আটক সব জিম্মিকে মুক্তি না দেয়া পর্যন্ত গাজায় সব ধরনের মানবিক ত্রাণ ও জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে রাখা উচিত। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের উচিত সেখানকার বাসিন্দাদের অভিবাসন করে অন্যত্র চলে যাওয়ায় উৎসাহ দেয়া। এছাড়া ইসরায়েলের উচিত গাজা উপত্যকার সমগ্র ভূখণ্ড অধিগ্রহণ করে স্থায়ীভাবে দখলে রাখা—যোগ করেন তিনি।
এর আগে ইসরায়েলের চ্যানেল ১৪কে বেন-গির বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির আলোচনায় ইসরায়েলের অংশ নেয়া হবে এক গুরুতর ভুল।’ তিনি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে বলেন, ‘ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজায় দুর্দান্ত কাজ করছে।’
গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি ভূখণ্ডে অতর্কিত হামলা চালায় হামাস। এ হামলায় ১ হাজার ১৯৭ জন নিহত হয়, যার বেশির ভাগই বেসামরিক মানুষ। সেদিনই গাজায় নির্বিচার ও প্রতিশোধমূলক গণহত্যা শুরু করেছে ইসরায়েল। এ হামলায় নিহত হয়েছে প্রায় ৩৯ হাজার ৮০০ জন ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছে ৯১ হাজার ৭০২ জন। হতাহতের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।










