সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরো গভীর করতে সম্মত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের ঐতিহাসিক ক্যাম্প ডেভিভ সামরিক ঘাঁটিতে ত্রিদেশীয় এ সম্মেলন থেকে চীনের কর্মকাণ্ডের নিন্দা করা হয়েছে। দেশ তিনটির শীর্ষ নেতারা দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের তৎপরতাকে ‘বিপজ্জনক ও আক্রমণাত্মক আচরণ’ বলে সমালোচনা করেছেন।
চীনের ক্রমবর্ধমান শক্তি ও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক হুমকির মুখে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার লক্ষ্যে জো বাইডেন প্রশাসন এশিয়ার প্রধান মিত্রদের সঙ্গে এ শীর্ষ বৈঠকের আয়োজন করেছে। প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা।
দেশ তিনটি সংকটের সময়ে একসঙ্গে পরামর্শ করে পদক্ষেপ নিতে সম্মত হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ, উসকানি ও অভিন্ন স্বার্থকে প্রভাবিত করে এমন সব হুমকি একসঙ্গে মোকাবেলা করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন তারা।
২০২৩ সালের শেষ নাগাদ উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের প্রকৃত সময়সংক্রান্ত তথ্য একে অন্যকে জানাতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি দেশগুলো বার্ষিক সামরিক প্রশিক্ষণে অংশ নেবে এবং প্রতি বছর ত্রিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হবে। স্বাগতিক দেশ হিসেবে এবারের বৈঠকের উদ্বোধন করেন জো বাইডেন।
১৯১০ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত সাড়ে তিন দশক কোরিয়ায় কঠোর ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ চালিয়েছিল জাপান। দূর প্রাচ্যের দেশ দুটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় একে অন্যের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে নিয়েছিল। ফলে সেই তিক্ত ইতিহাস এখনো প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে ‘সম্পর্ক উন্নয়নে’ প্রধান বাধা হিসেবে রয়ে গেছে। তবে সাম্প্রতিককালে অঞ্চলটিতে চীন ও উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে সম্পর্ক জোরদারে বাধ্য হচ্ছে টোকিও-সিউল।
রয়টার্স বলছে, চীন সম্পর্কে সিউল ও টোকিওর ভাষা প্রত্যাশার চেয়েও শক্তিশালী ছিল। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান উভয়েরই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। ফলে ক্যাম্প ডেভিডে তাদের এ বার্তা বেইজিংয়ের ক্ষোভ উসকে দিতে পারে।
বিবৃতিতে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের বেআইনি সামুদ্রিক দাবির ‘বিপজ্জনক ও আক্রমণাত্মক আচরণের’ তীব্র বিরোধিতার কথা জানানো হয়। তাদের দাবি, ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরে স্থিতাবস্থা পরিবর্তনে একতরফা চেষ্টা করছে বেইজিং।
এ বিবৃতির পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতে দেরি করেনি চীন। দেশটির ওয়াশিংটন দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ বলেছেন, ‘কে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিচার করতে সক্ষম।’
ক্যাম্প ডেভিডে বিদেশী নেতাদের নিয়ে এটাই ছিল বাইডেনের প্রথম সম্মেলন। তিনি বলেন, ‘বনময় স্থানটি বহুকাল ধরেই নতুন সূচনা ও নতুন সম্ভাবনাময় শক্তির প্রতীক হয়ে আছে।’ কিশিদা ও ইউনের সঙ্গে বৈঠক এ তিন দেশের জন্য একটি নতুন যুগের সূচনা করবে বলেও মন্তব্য করেন বাইডেন।










