সীমান্ত পেরিয়ে আসা অবৈধ অভিবাসী রোধে নতুন অভিবাসন কৌশল নিচ্ছে ইউরোপের দেশ পোল্যান্ড। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ‘অ্যাসাইলাম’ অর্থাৎ আশ্রয়ের অধিকার সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে দেশটি। খবর আল জাজিরা ও রয়টার্স।

বেলারুশের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে অনিয়মিত অভিবাসন হ্রাসের কৌশলের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নিল পোল্যান্ড। পোলিশ সরকার বেলারুশকে অভিযুক্ত করেছে যে তারা অভিবাসীদের তাদের যৌথ সীমান্ত দিয়ে প্রবেশে সহায়তা করেছে।

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক গত শনিবার বলেন, ‘অভিবাসন কৌশলের একটি অংশ হবে অ্যাসাইলামে সাময়িক স্থগিতাদেশ। আমি ইউরোপের কাছে এ সিদ্ধান্তের স্বীকৃতি চাইব।’

টাস্ক উল্লেখ করেন, আশ্রয়ের অধিকারকে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মানব পাচারকারীরা এমনভাবে ব্যবহার করছে যা আশ্রয়ের অধিকারকে বিকৃত করছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সীমান্ত পেরিয়ে পোল্যান্ডে প্রবেশ বেড়েছে। পোল্যান্ড থেকে অনেকে জার্মানিতেও ঢুকছে। ২০২১ সাল থেকে পোল্যান্ডে অভিবাসনপ্রত্যাশী মানুষের সংখ্যা ব্যাপক বেড়েছে। প্রধানত মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে বেলারুশ হয়ে অবৈধভাবে পোল্যান্ডে প্রবেশ করছেন আশ্রয়প্রার্থীরা।

অবৈধ অভিবাসীর ঢলের জন্য রাশিয়া ও বেলারুশকে দোষারোপ করছে পোল্যান্ড। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক অভিযোগ করেছেন, ইউক্রেন আগ্রাসনের পর থেকে বেলারুশ ও রাশিয়ার মধ্যে ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ চলছে। তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে অস্থিতিশীল করার জন্য এদিকে অভিবাসীদের পাঠিয়ে দিচ্ছে।

রাজধানী ওয়ারশতে ক্ষমতাসীন মধ্য-ডান নাগরিক জোটের এক রাজনৈতিক সভায় প্রধানমন্ত্রী টাস্ক বলেন, ‘মানব পাচারকারীরা বেলারুশ ও রাশিয়ার সহায়তায় অ্যাসাইলাম অধিকারের অপব্যবহার করছে। শত শত মানুষ প্রতিদিন সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

টাস্ক বলেন, ‘বেলারুশে আসা অভিবাসীদের অনেকেই দেশটিতে থাকেন না, পরিবর্তে জার্মানিতে প্রবেশ করেন। এ প্রবণতা বার্লিনকে পোল্যান্ডের সঙ্গে সীমান্তে কঠোরতা আরোপে প্ররোচিত করেছে।’

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, অ্যাসাইলাম প্রার্থী মানুষকে দেশগুলো আশ্রয়ের অধিকার দিতে বাধ্য। পোল্যান্ডের মানবাধিকার সংস্থাগুলোও সরকারের নতুন অভিবাসন নীতি নিয়ে চিন্তিত।

সীমান্তে অভিবাসীদের সহায়তাকারী এনজিও ‘গ্রুপা গ্রানিকা’র সদস্য মারিসিয়া জ্লংকিভিজ বলেন, ‘আশ্রয়ের অধিকার স্থগিত করা সংবিধানবিরোধী। এটি অভিবাসীদের মানব পাচারকারীদের হাতে ঠেলে দেবে।’

ওয়ারশভিত্তিক হেলসিংকি ফাউন্ডেশন ফর হিউম্যান রাইটসের বোর্ড সদস্য মালগোরজাতা সুলেকা বলেন, ‘সীমান্তে একটি মানবিক সংকট রয়েছে, আর এটি একটি উন্মুক্ত অভিবাসন রুটও। তাই বিষয়টি সমাধানে আমাদের একটি যৌক্তিক আলোচনার জায়গা খুঁজে বের করতে হবে।’