ধাতব জৈব কাঠামো বা মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্কস নামের একটি আণবিক কাঠামোর বিকাশ সাধনের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর রসায়নে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন তিন বিজ্ঞানী। তারা হলেন জাপানের সুসুমু কিতাগাওয়া, যুক্তরাজ্যের রিচার্ড রবসন ও জর্ডানের ওমর এম ইয়াগি। বাংলাদেশ সময় গতকাল বিকাল পৌনে ৪টার দিকে সুইডেনের স্টকহোম থেকে রসায়নে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে দ্য রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস।
সুসুমু কিতাগাওয়ার জন্ম ১৯৫১ সালে জাপানের কিয়োটো শহরে। ১৯৭৯ সালে কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন তিনি। বর্তমানে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রিচার্ড রবসনের জন্ম ১৯৩৭ সালে যুক্তরাজ্যের গ্লাসবার্নে। ১৯৬২ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসেবে কাজ করছেন। ওমর এম ইয়াগির জন্ম ১৯৬৫ সালে জর্ডানের আম্মানে। ১৯৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তিনি।
এ তিন নোবেলজয়ী এমন আণবিক কাঠামো উদ্ভাবন তৈরি করেছেন, যার ভেতর বড় ফাঁকা স্থান বা ‘কক্ষ’ রয়েছে। এ কক্ষগুলোর মধ্য দিয়ে গ্যাস এবং অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ সহজে চলাচল করতে পারে। মূলত এটি এমন এক নতুন ধরনের আণবিক কাঠামো যেখানে ধাতব আয়নের ভূমিকা হয় কর্নারস্টোনের মতো এবং আয়নগুলো কার্বনভিত্তিক লম্বা জৈব অণুগুলোর সঙ্গে যুক্ত থাকে।
এ ধাতব আয়ন এবং অণুগুলো একত্রে এমন স্ফটিক বা ক্রিস্টাল তৈরি করে, যেগুলোর অভ্যন্তরে অসংখ্য বড় বড় ছিদ্র বা গহ্বর থাকে। এ ছিদ্রযুক্ত উপকরণগুলোকেই ধাতব জৈব কাঠামো বা এমওএফ বলা হয়। এ কাঠামো দিয়ে মরুভূমির বাতাস থেকে পানি আহরণ, কার্বন ডাই-অক্সাইড সংগ্রহ, বিষাক্ত গ্যাস সংরক্ষণ, এমনকি রাসায়নিক বিক্রিয়া ত্বরান্বিত করা সম্ভব।
১৯৮৯ সালে রিচার্ড রবসন প্রথমবার তামা আয়ন ও চার বাহুবিশিষ্ট একটি অণু একত্রিত করে এমন এক স্ফটিক কাঠামো তৈরি করেন, যা দেখতে হীরকের মতো হলেও ভেতরে অসংখ্য ফাঁপা গহ্বর ছিল। তবে কাঠামোটি তখন অস্থিতিশীল ছিল। পরবর্তী সময়ে সুসুমু কিতাগাওয়া ও ওমর ইয়াগি ১৯৯২ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে পৃথকভাবে একাধিক অ্যাডভান্সড আবিষ্কার করেন, যা এ প্রযুক্তিকে স্থিতিশীল ভিত্তি দেয়। তাদের এ সাফল্য ভবিষ্যতে মানবজাতির বড় কিছু সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে—যেমন পানির মধ্যে থাকা ক্ষতিকর রাসায়নিক পিএফএএস আলাদা করা, পরিবেশে থাকা ওষুধের অবশেষ ভেঙে ফেলা কিংবা মরুভূমির বাতাস থেকে পানি আহরণ।
নোবেল কমিটি ফর কেমিস্ট্রির চেয়ার হেইনার লিঙ্ক এ আবিষ্কারের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘ধাতব জৈব কাঠামো বা এমওএফের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। কাস্টম-মেড উপকরণ এবং নতুন কার্যকারিতা দিয়ে এটি অভূতপূর্ব সুযোগ নিয়ে এসেছে।’










