২০২৩-২৪ সালের মধ্যে ইউরোপের অধিকাংশ দেশেই প্রাপ্তবয়স্কদের মাথাপিছু সম্পদ বেড়েছে। তবে কিছু দেশের ক্ষেত্রে সংকোচন দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংক ইউবিএস প্রকাশিত গ্লোবাল ওয়েলথ রিপোর্টে এ বিষয়ে বিস্তারিত উঠে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ইউরোপের প্রাপ্তবয়স্কদের মাথাপিছু সম্পদ বৃদ্ধিতে এগিয়ে আছে হাঙ্গেরি। আর সবচেয়ে কমেছে তুরস্কে। খবর ইউরো নিউজ।

স্থানীয় মুদ্রায় হিসাব করা সম্পদের পরিবর্তনের তথ্য দুভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে প্রতিবেদনে। গড় ও মধ্যম মান বা মিডিয়ান ভ্যালু হিসাবে। তবে মূল বিশ্লেষণের জন্য মধ্যম মানকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। কারণ এটি চরম ব্যতিক্রম বা অতিমাত্রায় ধনী-দরিদ্রের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকে।

ইউরোপে মাথাপিছু নিট সম্পদের পরিমাণ প্রতি বছরই উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন হয়। প্রতিবেদন অনুসারে, হাঙ্গেরিতে ২০২৩-২৪ সালের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যম নিট সম্পদ ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে, যা ইউরোপে সবচেয়ে বেশি। এরপর লিথুয়ানিয়া ও সুইডেনে বেড়েছে যথাক্রমে ১৬ দশমিক ৯ ও ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ। ইতালি ও লাটভিয়ায় বেড়েছে ১৫ শতাংশ।

এ প্রতিবেদনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ, প্রার্থী দেশ, ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সংস্থার সদস্য এবং যুক্তরাজ্যের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সেখানে শুধু তুরস্ক ও বেলজিয়ামে মধ্যম সম্পদ কমেছে যথাক্রমে ২০ দশমিক ৯ ও ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

ইউরোপের পাঁচটি বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে ইতালিতে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি ছিল ১৫ শতাংশ, অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে ৫ দশমিক ৩। বাকি তিন দেশ ফ্রান্স, জার্মানি ও স্পেনে যথাক্রমে ১০ দশমিক ৩, ৯ দশমিক ৫ ও ৯ শতাংশ মধ্যম নিট সম্পদ বেড়েছে।

বিশ্বের সর্বোচ্চ সম্পদধারী দেশ সুইজারল্যান্ডে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গেছে। অন্যদিকে সুইডেনসহ নর্ডিক দেশগুলোয় বৃদ্ধির হার ছিল ১০ শতাংশের বেশি।

ইউরোপের বাইরের দেশগুলোয় দক্ষিণ কোরিয়া ১৩ দশমিক ৯, অস্ট্রেলিয়া ১০ দশমিক ৭, কানাডা ৯ দশমিক ৬ ও জাপান ৮ দশমিক ৬ শতাংশ হারে সম্পদ বৃদ্ধি দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে বৃদ্ধি ছিল মাত্র ২ দশমিক ৩, যেখানে চীন ও রাশিয়ায় যথাক্রমে ৬ দশমিক ৩ ও ৮ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে।

গড় সম্পদের দিক থেকে তুরস্কে মাথাপিছু নিট সম্পদ ১৪ দশমিক ৬ ও বেলজিয়ামে দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি লুক্সেমবার্গ, এস্তোনিয়া, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যে গড় সম্পদের ক্ষেত্রে হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২০-২৩ সালের মধ্যে সহজলভ্য ঋণ এবং নেতিবাচক সুদহারের কারণে সম্পদমূল্যে ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটে। ফলে সঞ্চয়কারীদের বিপরীতে ঋণগ্রহীতা ও করপোরেটদের দিকে সম্পদের স্থানান্তর ঘটে এবং ফরেন এক্সচেঞ্জ প্রোটেকটেড ডিপোজিট স্কিম এ প্রবণতাকে আরো প্রভাবিত করে। অবশ্য ২০২৩ সালের মাঝামাঝি থেকে সুদহার স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সম্পদমূল্যের ঊর্ধ্বগামী প্রবণতা নেমে আসে।

দীর্ঘমেয়াদি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২০-২৪ সালের মধ্যে সাইপ্রাসে মধ্যম সম্পদ ৪৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছিল, ডেনমার্ক, লাটভিয়া ও লিথুয়ানিয়ায় ছিল ৩০ শতাংশের ওপরে। এছাড়া মাল্টা, স্লোভেনিয়া, নরওয়ে, বুলগেরিয়া ও পর্তুগালে ২৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে। ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে জার্মানিতে ২০ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে ইতালিতে মাত্র ৪ দশমিক ৭ শতাংশ; স্পেন এবং যুক্তরাজ্যে যথাক্রমে ১৭ দশমিক ৮ ও ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। ফ্রান্সে বৃদ্ধির হার ছিল ১০ দশমিক ৫ শতাংশ।

গড় হিসাবে সাইপ্রাস, অস্ট্রিয়া, মাল্টা, এস্তোনিয়া, ইতালি ও আয়ারল্যান্ডে সম্পদের ক্ষেত্রে হ্রাস দেখা গেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি প্রধানত অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও ইতালিতে গড় সম্পদের সংকোচনের কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার বৃদ্ধি এবং সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে মুদ্রা অবমূল্যায়নও প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত দেয় যে বণ্টনের উচ্চ স্তরে সম্পদের বৃদ্ধি মধ্যম অংশের তুলনায় ধীরগতিতে হয়েছে, যা সুইজারল্যান্ড, ইতালি, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যে লক্ষ্য করা গেছে।