শ্রীলংকায় ১৭তম পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয় পেয়েছে প্রেসিডেন্ট আনুরা কুমারা দিশানায়েকের নির্বাচনী জোট ন্যাশনাল পিপলস পাওয়ার (এনপিপি)। গত বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে তার জোট দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়। খবর রয়টার্স ও বিবিসি।
শ্রীলংকার পার্লামেন্টে আসন সংখ্যা ২২৫। এর মধ্যে সরাসরি ভোট হয় ১৯৬ আসনে। বাকি ২৯টি আসন প্রতিটি দলের প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে বরাদ্দ করা হয়। দেশটির নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে থাকা সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, এনপিপি পেয়েছে ১৫৯টি আসন। তারা ভোট পেয়েছে ৬৮ লাখের বেশি। অন্যদিকে এনপিপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধী নেতা সাজিথ প্রেমাদাসার সামাগি যানা বালাওয়েগায়া (এসজেবি) পার্টি পেয়েছে ৪০টি আসন। তাদের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা প্রায় ১৯ লাখ। আর সাবেক প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহের সমর্থিত নিউ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট জিতেছে তিনটি আসন।
গত সেপ্টেম্বরে শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন আনুরা। কিন্তু তখন পার্লামেন্টে এনপিপির আসন ছিল মাত্র তিনটি। পার্লামেন্টে নিজ জোটের আসন বাড়াতে আগাম নির্বাচন দেন তিনি।
ভোট দেয়ার পর গত বৃহস্পতিবার আনুরা বলেন, ‘আমরা একটি শক্তিশালী পার্লামেন্ট গঠনের জন্য জনরায় (ম্যান্ডেট) পাওয়ার আশা করছি। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে জনগণ আমাদের এ ম্যান্ডেট দেবে।’ আনুরা আরো বলেন, ‘গত সেপ্টেম্বর থেকে শ্রীলংকার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন শুরু হয়েছে। এ পরিবর্তন অবশ্যই অব্যাহত থাকবে।’
বছর দুয়েক আগে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে শ্রীলংকা। বিক্ষোভের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ত্যাগ করেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজপাকসে। পরে ওই বছরের জুলাইয়ে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা গ্রহণ করেন ৭৫ বছর বয়সী রনিল বিক্রমাসিংহে। রাজাপাকসে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার সরকারের মেয়াদের বাকি সময় দায়িত্ব পালনের জন্য বিক্রমাসিংহেকে নির্বাচিত করে দেশটির পার্লামেন্ট। তিনি ক্ষমতা গ্রহণের পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণসহায়তা নিয়ে দেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয় অনেকটাই কাটিয়ে তুলেছে শ্রীলংকা। ২০২২ সালে দেশটিতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৭০ শতাংশ। আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, সেটি এখন ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। স্থানীয় মুদ্রা শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বাড়তে শুরু করে। গোতাবায়ার দেশত্যাগের প্রায় দুই বছর পর গত সেপ্টেম্বরে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়। এতে জয়ী হন বামপন্থী রাজনীতিক আনুরা।
শ্রীলংকায় ২০২০ সালের আগস্টে পাঁচ বছর মেয়াদে পার্লামেন্ট নির্বাচন হয়েছিল। সে হিসেবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক বছর আগে আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচন হলো।










