চলতি মাসেই ইরানে হামলা চালাতে পারে ইসরায়েল। এর আগে তেহরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার কথা চিন্তা করলেও সে পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে তেল আবিব। ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স চলতি মাসেই ইরানের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোয় আক্রমণ করতে পারে— এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা।

এনবিসির প্রতিবেদনের বরাতে রয়টার্স বলছে, ইহুদিদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইয়োম কিপ্পুরের ছুটি রয়েছে সামনে। আর এর মধ্যেই ইসরায়েলের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া আসতে পারে বলে মনে করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। এমন ইঙ্গিত এসেছে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দিক থেকেও।

ওই কর্মকর্তাদের ধারণা, পরমাণু স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা বাদ দিয়ে ইসরায়েল সম্ভবত ইরানের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোয় আক্রমণ করবে। তবে কীভাবে ও কখন হামলাটি চালাবে এ বিষয়ে দেশটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বলেও জানিয়েছেন তারা।

এদিকে ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলা মোকাবেলার জন্য সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইরানও। বিবিসির খবর বলছে, এরই মধ্যে ইরান উপসাগরীয় আরব দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছে, তারা যেন নিজেদের আকাশসীমা ইসরায়েলকে ব্যবহার করতে না দেয়। যে দেশ ইরানে আক্রমণ চালাতে ইসরায়েলকে সাহায্য করবে, তারাও ইরানের লক্ষ্য বিবেচিত হবে। উল্লেখ্য, এদের মধ্যে কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।

এদিকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার ওপর যেকোনো ধরনের হামলার বিরোধিতা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার বিষয়ে নিরুৎসাহিত করেছে। বিবিসির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর মাসখানেকের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে। এর মধ্যে তেলের স্থাপনায় হামলা হলে জ্বালানির বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে, যার প্রভাব পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনেও। এ কারণেই জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে কোনো হামলাকে সমর্থন করবে না দেশটি।

গত বছরের অক্টোবরে ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছিল হামাস। তার পর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধ চলছে এক বছর ধরে। সম্প্রতি ইসরায়েল তার সামরিক অভিযানের আওতা সম্প্রসারণ করেছে দক্ষিণ লেবানন, বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলি ও বেকা উপত্যকা পর্যন্ত। সেখানে বেশ কয়েকটি হামলায় গত এক বছরে হিজবুল্লাহর অনেক শীর্ষ নেতাসহ মারা গেছে ২ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ। এর মধ্যে রয়েছে বেসামরিক নাগরিক, নারী ও শিশু। প্রতিক্রিয়ায় হিজবুল্লাহও ইসরায়েলে রকেট নিক্ষেপ করেছে।

এছাড়া ইরাকের ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স রোববার এক বিবৃতিতে বলেছে, ফিলিস্তিন ও লেবাননের প্রতি সমর্থনের অংশ হিসেবে ইসরায়েল অধিকৃত গোলান হাইটসের একটি সামরিক স্থানকে ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু করেছে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের দামামা আরো দীর্ঘস্থায়ী হওয়ারও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তোপের মুখে পড়েছে ইসরায়েল। পেন্টাগন জানায়, শনিবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের সঙ্গে এক ফোনকলে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব লয়েড অস্টিন। বৃহস্পতি থেকে রোববার পর্যন্ত শান্তিরক্ষীদের ওপর ইসরায়েলের চালানো তিনটি হামলায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে শান্তিরক্ষা মিশন ইউনিফিল।