যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। রোববার রাতে চালানো এ অভিযানে লক্ষ্যবস্তু ছিল ফোর্ডো, নাতানজ ও ইসফাহান পারমাণবিক কেন্দ্র।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘‘এ অভিযান ছিল এক বিস্ময়কর সামরিক সাফল্য’’ এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে’। তবে ইরানে এটাই প্রথম নয়—এর আগেও বহুবার যুদ্ধক্ষেত্রে এই অতি-আধুনিক বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমানটি নির্মাণ করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পপ্রতিষ্ঠান নর্থরপ গ্রুম্যান। এমনভাবে তৈরি এই বিমানটি রাডারে সহজে ধরা পড়ে না। এটি প্রচলিত এবং পারমাণবিক—দুই ধরনের বোমাই বহনে সক্ষম।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোথায় কোথায় যুদ্ধক্ষেত্রে বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান ব্যবহার করা হয়েছে, নিচে তা তুলে ধরা হলো—

কসোভো যুদ্ধ (১৯৯৯)

বি-২ স্টেলথ বোমারুর যুদ্ধ-অভিষেক ঘটে সাবেক যুগোশ্লাভিয়ায় ন্যাটো পরিচালিত ‘অপারেশন অ্যালায়েড ফোর্স’-এ। যুক্তরাষ্ট্রের মিজৌরি অঙ্গরাজ্য থেকে সরাসরি উড়ে গিয়ে সার্বিয়ার সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানে বিমানটি। প্রায় ৩০ ঘণ্টা ধরে চালানো এই মিশনে লক্ষ্যবস্তু ছিল বিমানঘাঁটি ও কমান্ড সেন্টার।

আফগানিস্তান (২০০১–২০০২)

তালেবান নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তানে যুদ্ধের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করে বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান। বাঙ্কার, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও গুহা কমপ্লেক্স লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এ অভিযানে বি-২ এর দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতা দৃশ্যমান হয়।

ইরাক যুদ্ধ (২০০৩)

২০০৩ সালের মার্চে ইরাক আক্রমণের সূচনাতেই সাদ্দাম হোসেনের সন্দেহভাজন বাঙ্কার ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা ফেলে অভিযান চালায় বি-২।

লিবিয়া (২০১১)

ন্যাটোর ‘অপারেশন ওডিসি ডন’-এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বি-২ বিমান সরাসরি মার্কিন ভূখণ্ড থেকে উড়ে গিয়ে লিবিয়ার বিমানঘাঁটি ও সুরক্ষিত বিমান আশ্রয়স্থলে হামলা চালায়। এতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লিবিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ভেঙে পড়ে।

সিরিয়া (২০১৭)

সরকারিভাবে স্বীকৃত না হলেও, বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুসারে সিরিয়ায় আইএসআইএস-এর বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে বি-২ ব্যবহৃত হয়েছিল। সেখানে ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিতে আঘাত হানার জন্য ব্যবহৃত হয় ‘ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর’ বোমা।

ইয়েমেন (২০২৪)

২০২৪ সালের অক্টোবরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে ব্যবহৃত হয় বি-২। পেন্টাগনের ভাষ্যমতে, এ হামলা ছিল গভীরভাবে সুরক্ষিত স্থাপনা ধ্বংসের এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত।

ইরান (২০২৫)

সর্বশেষ এবং সম্ভবত সবচেয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে, ২০২৫ সালের ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র তিনটি ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় বি-২ দিয়ে হামলা চালায়। ট্রাম্প প্রশাসন এই হামলাকে ‘‘সম্পূর্ণ বিজয়’’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে থামাতে এ হামলার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে বার্তা স্পষ্ট— বি-২ স্টেলথ বোমারু এখনো যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ও শক্তিশালী সামরিক অস্ত্র।