সিরিয়ার বাশার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর বর্তমানে দেশটির নিয়ন্ত্রণ বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শামমের (এইচটিএস) হাতে। গোষ্ঠীটির বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যোগাযোগ করেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন। এইচটিএসের সঙ্গে সরাসরি মার্কিন যোগাযোগের এটিই প্রথম স্বীকৃতি। যদিও এইচটিএসকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে রেখেছে। খবর বিবিসি।
সিরিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার জন্য বেশ কয়েকটি আরব দেশ, তুরস্ক ও ইউরোপের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর জর্ডানে এ কথা বলেন ব্লিংকেন। আলোচনায় নেতারা সিরিয়ায় শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের পক্ষে একমত হয়েছেন। জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি জানান, আঞ্চলিক শক্তিগুলো চায় না সিরিয়া ‘নৈরাজ্যে পতিত’ হোক।
একটি যৌথ ইশতেহারে সিরিয়ার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে, যা সংখ্যালঘুদের অধিকারকে সম্মান করবে ও ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর’ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করতে পারবে না। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর টালমাটাল ঘটনার পর সিরিয়ার ভেতরে ও বাইরে মূলত দেশটিতে নতুন শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিষয়েই আলোচনা চলছে। সিরীয়দের প্রতিনিধিত্ব করবে তেমন শাসন ব্যবস্থাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
জর্ডানে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইন মধ্যপ্রাচ্য ও এর বাইরেও সিরিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কর্নেল গাদ্দাফিকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের পর সৃষ্ট নৈরাজ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আঞ্চলিক শক্তিগুলো আরেকটি লিবিয়া দেখতে চায় না।’
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, ‘সিরিয়ার বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই সংরক্ষণ ও সংস্কার করতে হবে। সন্ত্রাসবাদকে কখনোই পরিবর্তনজনিত অস্থিতিশীল সময়ের সুযোগ নিতে দেয়া যাবে না। আমাদের অবশ্যই প্রচেষ্টাগুলোর সমন্বয় ঘটাতে হবে এবং অতীতের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিতে হবে।’
এইচটিএস জানিয়েছে, তারা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন করতে চায়। তবে গোষ্ঠীটির সহিংস জিহাদি অতীতের কারণে অনেকের সন্দেহ রয়েছে, তারা এমন প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে কিনা। এ প্রসঙ্গে অ্যান্টনি ব্লিংকেন জানান, ওয়াশিংটন এইচটিএসের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছে। বিশেষ করে বহুদিন ধরে নিখোঁজ থাকা মার্কিন সাংবাদিক অস্টিন টাইসের বিষয়ে যোগাযোগ হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এইচটিএস ও অন্যান্য দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।’
জর্ডানে অনুষ্ঠিত আলোচনায় সিরিয়ার কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিল না। সেখানে অংশ নেয়া আট আরব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেন, তারা নিশ্চিত করতে চান যে সিরিয়া ঐক্যবদ্ধ থাকবে ও সাম্প্রদায়িকভাবে বিভক্ত হবে না। বৈঠকে আরো অনুপস্থিত ছিল দীর্ঘদিন ধরে বাশারকে অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে সাহায্য করা দুই দেশ ইরান ও রাশিয়া।
১৩ বছরের গৃহযুদ্ধের পর আসাদের পতন ঘটল। এ যুদ্ধে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ মারা যায় এবং কয়েক লাখ মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক শক্তি ও সিরিয়ার প্রক্সিগুলো জড়িয়ে পড়ে। বছরের পর বছর ধরে সিরিয়া নিয়ে যুদ্ধ করা বিদেশী শক্তির প্রভাব এখনো এর ভবিষ্যৎকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে।
আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার ভবিষ্যৎ নেতাদের অবশ্যই দেশের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঐক্য স্থাপন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তা না হলে সিরীয়রা সত্যিকারের স্বাধীনতার স্বাদ পাবে না।










