পার্লামেন্টে অভিশংসিত হয়েও নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য লড়াই করার অঙ্গীকার করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল। গতকাল শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাবের ভোটাভুটিতে ২০৪ জন আইনপ্রণেতা পক্ষে ভোট দেন। ফলে ইউন তাৎক্ষণিকভাবে পদ থেকে বরখাস্ত হবেন এবং প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সু ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। খবর রয়টার্স।

ইউনকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে বরখাস্ত করা হবে নাকি তার ক্ষমতা পুনর্বহাল করা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সাংবিধানিক আদালতের হাতে ১৮০ দিন সময় রয়েছে। যদি তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় তাহলে ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।

গতকাল অভিশংসিত হওয়ার পর ইউন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন এবং দেশকে দৃঢ় প্রস্তুতিমূলক অবস্থা বজায় রাখার আহ্বান জানান, যাতে উত্তর কোরিয়া কোনো উসকানি দেয়ার পরিকল্পনা না করতে পারে। ইউন সামরিক আইন জারির পর থেকে দেশটিতে চলমান রাজনৈতিক সংকটে বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা ও সামরিক কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন এবং কয়েকজন গ্রেফতার হয়েছেন। এতে পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়াকে প্রতিরোধ করতে দক্ষিণ কোরিয়ার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

অভিশংসিত হওয়ার পর ইউন বলেন, আপাতত আমি থেমে যাচ্ছি। তবে গত আড়াই বছরে জনগণের সঙ্গে যেই যাত্রা আমি ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়েছি, তা কখনোই থেমে যেতে পারে না। আমি কখনোই হাল ছাড়ব না।

সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক আইন জারি সংক্রান্ত বিতর্ককে কেন্দ্র করে ইউন সুক ইওলের অভিশংসনের দাবি ওঠে। তাঁকে অভিশংসনের জন্য প্রথম দফার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর আজ বিকেলে দ্বিতীয় দফায় পার্লামেন্টে ভোটাভুটি হয়।

৩০০ জন আইনপ্রণেতার মধ্যে ২০৪ জন প্রেসিডেন্টকে অভিশংসিত করার পক্ষে ভোট দেন। ৮৫ জন প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন। তিনজন ভোটদানে বিরত থাকেন। আটটি ভোট বাতিল হয়ে যায়।

অভিশংসন প্রস্তাব পাস হতে ২০০ ভোট প্রয়োজন হয়। এ জন্য প্রস্তাবটি পাস করাতে ইউনের নেতৃত্বাধীন পিপল পাওয়ার পার্টির (পিপিপি) আটজন পার্লামেন্ট সদস্যকে পক্ষ পরিবর্তনের জন্য রাজি করানোর প্রয়োজন ছিল।