নিউ কালেক্টিভ কোয়ান্টিফায়েড গোলের (এনসিকিউজি) আওতায় পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়নের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। গতকাল আজারবাইজানের বাকুতে কপ২৯ সম্মেলনে বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তিনি। খবর বাসস।

অভিযোজন, প্রশমন এবং ক্ষয় ও ক্ষতিপূরণের জন্য ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতির প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন ও স্বল্প সুদের ঋণের প্রস্তাব দেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘এনসিকিউজির আওতায় সরকারি অর্থায়নই প্রধান উৎস হওয়া উচিত, বেসরকারি খাতও সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। অন্তত ২০ শতাংশ অর্থায়ন ইউএনএফসিসিসির (গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড, অ্যাডাপটেশন ফান্ড) মতো প্রতিষ্ঠিত তহবিলের মাধ্যমে হওয়া উচিত।’

জলবায়ু অর্থায়নের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে স্ট্যান্ডিং কমিটি অন ফাইন্যান্সের মাধ্যমে এর সংজ্ঞা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

২০২৩ সালের অ্যাডাপটেশন ফান্ড গ্যাপ রিপোর্টের তথ্য তুলে ধরে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘অভিযোজন খাতে বাংলাদেশে প্রতি বছর ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন, যেখানে দেশীয় উৎস থেকে মাত্র ৩ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ হচ্ছে। ফলে ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের বিশাল ঘাটতি রয়েছে, যা বহিঃস্রোতের অনুদানভিত্তিক অর্থায়নের মাধ্যমে পূরণ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিকল্পনাগুলো বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির মাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখতে যথেষ্ট নয়।’ তাই উন্নত দেশগুলোকে তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। বলেন, ‘প্রয়োজনীয় অর্থ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পাওয়া গেলে বাংলাদেশ উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জন

করতে প্রস্তুত।’