ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার প্রেক্ষাপটে ইরান এখনই কোনো আলোচনার জন্য প্রস্তুত নয় বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে নির্ধারিত এক বৈঠকের আগে তিনি এই মন্তব্য করেন।

আরাঘচি এরই মধ্যে জেনেভায় পৌঁছেছেন। ইউরোপের তিন পরাশক্তির উদ্যোগে এই বৈঠকের উদ্দেশ্য হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের জন্য কূটনৈতিক পথ তৈরি করা। ইসরায়েল গত সপ্তাহে ইরানে বিমান হামলা শুরু করার পর এটি প্রথম উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা।

তবে ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে আরাঘচি বলেন, ইসরায়েল আমাদের ওপর আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় আমি কারো সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসতে রাজি নই। যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জাড়িয়ে পড়ার আশংকার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধের পর আমি মনে করি অন্য দেশ এই আগ্রাসন থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নেবে।’

পশ্চিমা গণমাধ্যম গুঞ্জন উঠেছে, ইরানে হামলায় ইসরায়েলের সঙ্গে যোগ দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানে মার্কিন হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দুই সপ্তাহের জন্য কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনার সুযোগ দেবেন। এরইপ্রেক্ষিতে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছিল ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা। এরইমধ্যে জেনেভায় পৌঁছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি।

বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে একটি কূটনৈতিক সমাধান অর্জনের জন্য একটি সম্ভাব্য জানালা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভয়াবহ পরিস্থিতি বন্ধ করা ও আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনের এখনই সময়। এই সংঘাতে কারো লাভ নেই।

তবে ইসরায়েলের চলমান হামলার মুখে আলোচনার টেবিল থেকে সরে যাচ্ছে ইরান। ইরানের এ পদক্ষেপে বিশ্লেষকরা বলছেন, তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট যে তারা কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ রাখতে চায়, তবে তা নির্ভর করছে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসানের ওপর। ইউরোপীয় নেতারা চাইলেও, তেহরানের মনোভাব কঠোর থাকলে এই প্রচেষ্টা কতটা সফল হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।