২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে কমপক্ষে ৮ জন মানুষ মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে মারা গেছেন। ফ্লোরিডা ও লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে। সম্প্রতি এ তালিকায় যুক্ত হলেন ডেরেক মাইকেল ডি’আর্সি। তিনি ভার্জিনিয়ার একটি বিচে ছুটি কাটাতে গিয়ে এ প্রাণঘাতী ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমিত হন। খবর দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

তার পায়ে আগে থেকেই কেটে যাওয়া একটি ক্ষতস্থান ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সমুদ্রের হাঁটুপানিতে নামার সময় সেই ক্ষতস্থান দিয়েই ব্যাকটেরিয়া শরীরে ঢুকে পড়ে। এ ঘটনার চার দিন পর ডেরেকের পায়ে বেগুনি দাগ দেখতে পান তার স্ত্রী জয়েস। এর তিন দিন পরে স্বাস্থ্যপরীক্ষায় ‘ভাইব্রিও ব্যাকটেরিয়া’ নামক ফ্লেশ-ইটিং বা মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ধরা পড়ে। কিন্তু ততক্ষণে তার পা, বুক, হাত ও মাথায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসকরা সংক্রমণের বিস্তার থামাতে উভয় পা কেটে ফেললেও সেটা আর থামানো যায়নি। শেষ পর্যন্ত ১৩ দিন পর তিনি মারা যান।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাইব্রিও ভালনিফিকাস সাধারণত উষ্ণ উপকূলীয় পানিতে পাওয়া যায়। তাই উপকূলীয় পানিতে নামার আগে সতর্কতা জরুরি। বিশেষ করে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তারাই বেশি আক্রান্ত হন। পেশায় চিত্রশিল্পী ডেরেকের বয়স ছিল ৬৪ বছর। আর, তার ডায়ালাইসিসও করা হয়েছিল। ফলে সংক্রমণের বেশি ঝুঁকিতে ছিলেন তিনি।

ফ্লেশ-ইটিং বা মাংসখেকো মানে আক্ষরিকভাবে মাংস খাওয়া নয়, বরং টিস্যু ধ্বংসকারী ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ। জরুরি চিকিৎসা ছাড়া এটি প্রাণঘাতী হতে পারে। এর চিকিৎসাগত নাম হচ্ছে, নেক্রোটাইজিং ফ্যাসাইটিস।