২০২৪ সালকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য চড়াই-উতরাইয়ের বছর বলা যেতে পারে। এ বছর দেশটিতে নিজের ক্ষমতা আরো দৃঢ় করেছেন তিনি। ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে পশ্চিমা বিশ্বের কাছ থেকে রাশিয়ার বিচ্ছিন্নতা মোকাবেলা করতে হয়েছে তাকে। বেশকিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখিও হয়েছেন পুতিন। যার মধ্যে মস্কোয় বন্দুকধারীদের প্রাণঘাতী হামলা ও ইউক্রেনীয় সেনাদের রাশিয়ার ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ উল্লেখযোগ্য। ইউক্রেনে প্রায় তিন বছর ধরে চলা রাশিয়ার আগ্রাসন নতুন ও সম্ভবত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের কিয়েভের প্রতি অনিশ্চিত সমর্থন রয়েছে।

জানুয়ারিতে পুতিন প্রকৃত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াই পুনর্নির্বাচনে অংশ নেন। কারণ তার বিরোধীরা কারাগারে বা নির্বাসনে ছিলেন। তবু যুদ্ধবিরোধী সমালোচক বরিস নাদেজদিন উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন অর্জন করেন। কিন্তু তাকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাধা দেয়া হয়।

ফেব্রুয়ারিতে বিরোধী নেতা আলেক্সি নাভালনি কারাগারে ৪৭ বছর বয়সে মারা যান। তার মৃত্যু বিশ্বকে নাড়িয়ে দেয় এবং ব্যাপক শোকের সৃষ্টি করে। মার্চে পুতিন পুনর্নির্বাচিত হলে তার মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। এর কয়েকদিন পর মস্কোর কাছে একটি কনসার্ট হলে হামলায় ১৪০ জনেরও বেশি নিহত হন। আইএসআইএস হামলার দায় স্বীকার করলেও ক্রেমলিন ইউক্রেনকে দোষারোপ করে।

জুনে পুতিন ২৪ বছর পর প্রথমবার উত্তর কোরিয়া সফর করেন এবং কিম জং উনের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা চুক্তি করেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাদের সম্পর্ককে শক্তিশালী করে। জুলাইয়ে সাংবাদিক ইভান গার্শকোভিচকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ১৬ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাপকভাবে অন্যায় ও মিথ্যা বলে নিন্দিত হয়েছে।

আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে বড় ধরনের বন্দি বিনিময়ে ইভান গার্শকোভিচসহ বেশ কয়েকজন উল্লেখযোগ্য বন্দি মুক্তি পান। একই মাসে ইউক্রেন রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে বড় ধরনের অভিযান চালায়, যা রাশিয়ার প্রতিরক্ষা দুর্বলতারই ইঙ্গিত দেয়।

সেপ্টেম্বরে পুতিন মঙ্গোলিয়া সফরে যান। সেখানে তাকে আন্তঃরাষ্ট্র অপরাধ আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা সত্ত্বেও স্বাগত জানানো হয়। অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে যে উত্তর কোরিয়া ১০ হাজার সেনা রাশিয়ায় পাঠিয়েছে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে, যা উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে দেয়। পুতিন ব্রিকস সম্মেলন আয়োজন করেন, যা রাশিয়ার বৈশ্বিক প্রভাব দেখানোর চেষ্টা হিসেবে দেখা হয়। নভেম্বরে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, যা ইউক্রেনের জন্য মার্কিন সমর্থন কমে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ায়। রাশিয়া নতুন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে এবং ন্যাটো মিত্রদের হুমকি দেয়।

ডিসেম্বরে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকার পতন হয়। রাশিয়া তাকে আশ্রয় দেয়, যা রাশিয়ার প্রভাব কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। মস্কোয় এক বোমা হামলায় এক জেনারেল নিহত হন, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি প্রকাশ করে। পরে পুতিন একটি প্লেন দুর্ঘটনার জন্য আজারবাইজানের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেন, যা রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এপি অবলম্বনে