লেবাননে ২১ দিনের যুদ্ধবিরতির বৈশ্বিক আহ্বান প্রত্যাখান করেছে ইসরায়েল।  যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখান করে লেবাননে আবারো হামলা চালিয়েছে দেশটি। যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখান করে এমন হামলা আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। খবর রয়টার্স।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং অন্য আটটি দেশ লেবাননে ২১ দিনের যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছিল ইসরায়েরকে। আহ্বান জানানোর কয়েক ঘণ্টা পর ইসরায়েল তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ কাটজ বলেন, বিজয় না আসা পর্যন্ত এবং উত্তরের বাসিন্দারা তাদের বাড়িঘরে নিরাপদে প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত আমরা আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবো।

এর কিছুক্ষণ পরই ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা লেবাননের রাজধানী বৈরুতে সুনির্দিষ্ট হামলা চালাচ্ছে। বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং রাজধানীর দক্ষিণ শহরতলিতে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। এটি হিজবুল্লাহর কেন্দ্র বলে বিবেচিত।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, তিনি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সাড়া দেননি এবং তিনি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে পূর্ণ শক্তি দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর)  ইসরায়েলের সেনাপ্রধান বলেন, তার সেনাদের লেবাননে সম্ভাব্য স্থল আক্রমণের জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত। কারণ ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো টানা তৃতীয় দিনের মতো হিজবুল্লাহর স্থাপনায় বোমাবর্ষণ করেছে। তেল আবিবের কাছে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে একটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যা ইসরায়েল গুলি করে ভূপাতিত করেছে।

এদিকে লেবাননের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফর করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের হাসপাতালগুলোতে হতাহতের সংখ্যায় উপচে পড়েছে। নিরপত্তা পরিষদে এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আবেদন করেছেন তিনি।

ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতের দাবি, তার সরকার পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ চায় না এবং কূটনৈতিক সমাধানের জন্য রাজি। ড্যানি ড্যানন বলেন, ইসরায়েল কেবল তাই করছে যা অন্য কোনো দেশ তাদের নাগরিকরা হুমকির মুখে পড়লে করবে।