যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপের ঐতিহ্যবাহী লাহাইনা শহর দাবানলের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্রমশ বাড়তে থাকা মৃতের সংখ্যাও প্রায় ১০০। এমন ঘটনায় আগাম সতর্কবার্তা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির কাছে অনেকেই দাবি করেন, সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তারা কোনো সতর্কবার্তা পায়নি। এমনকি আগুন ছড়িয়ে পড়ার পরও দ্রুত কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। যদি পদক্ষেপ নেওয়া হতো তাহলে আরো অনেক মানুষ বেঁচে যেত।

লাহাইনার এ বিপর্যয়কে এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সংঘটিত সবচেয়ে মারাত্মক দাবানল বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।

৪২ বছর বয়সী বাসিন্দা লেস মুনের জন্য, পূর্ব উপকূলে একটি ‘ড্রপ কলের’ মাধ্যমে সতর্ক বার্তা পান। কিন্তু এটি খুব একটা জোরালো ছিল না।

আরো বলেন, আমি ভেবেছিলাম হয়তো আরেকবার শহরটিতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হবে। কারণ এ ধরনের বাতাস প্রায় উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলোতে আঘাত হানে।

অন্যদের মতো তিনি মনে করেছিলেন, কাছাকাছি সৃষ্ট হারিকেন ডোরার সঙ্গে বিদ্যুতের বিভ্রাট সম্পর্কিত। ডোরার বাতাস স্থানীয় দাবানলগুলোকে আরো ভয়ংকর করে তোলে।

এদিন সকাল প্রায় ১০টার দিকে কর্মকর্তারা ঘোষণা দেয় লাহাইনার আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আছে। আগুন আবার জ্বলে উঠতে পারে তা নিয়ে সংশ্লিষ্টরা আর কোনো সতর্কবার্তা দেয়নি। কিন্তু পরে পরিস্থিতি আরো বিপজ্জনক হয়ে উঠে।

আগুনের বিষয়ে সতর্ক করার জন্য কোনো ধরনের সাইরেন বাজানো হয়নি বলেও দাবি ভুক্তভোগীর। অঞ্চলটি থেকে সরে যাওয়ার জন্য সরকারি কোনো বিজ্ঞপ্তিও দেয়া হয়নি।

এক বাসিন্দা জানায়, গত ৮ আগস্ট ঘুম থেকে উঠে দেখেন ঘরে বিদুৎ নেই। তাদের ফোনেও চার্জ নেই। ঘড়ির অ্যালার্মও বাজেনি। ট্রাফিক লাইটগুলোও অন্ধকার ছিল।

এদিকে মাউই কাউন্টির পুলিশ প্রধান জন পেলেটিয়ার জানা, পুড়ে যাওয়ার এলাকার মাত্র ৩ শতাংশ অংশে তারা অনুসন্ধান চালাতে সক্ষম হয়েছেন। দাবানলের ক্ষতির মাত্রা সম্পর্কে তারা এখনো কিছুই জানেন না।