এক প্রতিবেদনে সৌদি সীমান্তরক্ষীদের বিরুদ্ধে অভিবাসন প্রত্যাশীদের গণহত্যার অভিযোগে এনেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ না করলেও নিহত কয়েকশ পর্যন্ত হতে পারে। গত জুন পর্যন্ত ইয়েমেন সীমান্তে এসব ঘটনা ঘটেছে। খবর বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ-বিধ্বস্ত ইয়েমেন পাড়ি দিয়ে সৌদি সীমান্তে ওইসব মানুষদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। যাদের অনেকেই ইথিওপিয়া থেকে এসেছিলেন।

বেঁচে ফেরা অভিবাসীরা জানান, গুলির আঘাতে তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তারা অনেকে মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন।

আগেই এ ধরনের অভিযোগ এসেছিল। তখন ‘পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ’ প্রত্যাখ্যান করে সৌদি আরব।

অভিবাসীদের বরাত দিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, সীমান্তরক্ষীরা তাদের ওপর বৃষ্টির মতো গুলি চালিয়েছিল। ইয়েমেনের রুক্ষ উত্তর সীমান্তের ওই সব অভিযানে অংশ নেয় সৌদি পুলিশ ও সেনারা। কখনো কখনো অভিবাসীদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরক ছোড়া হয়।

বিবিসির অনুসন্ধানেও হতাহতের ঘটনা উঠে আসে। গণমাধ্যমটিকে ২১ বছরের মোস্তফা সুফিয়া মোহাম্মদ বলেন, গত বছরের জুলাই মাসে লুকিয়ে সীমান্ত পেরোনোর চেষ্টা করি। এ সময় গুলিতে আমাদের দলের ৪৫ জন নিহত হন।

তিনি বলেন, লক্ষ্যও করিনি যে আমাকে গুলি করা হয়েছে। কিন্তু আমি যখন উঠে হাঁটার চেষ্টা করি তখন দেখি পায়ের একটি অংশ নেই।

ওই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর শুট করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মুস্তাফার বাম পা প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পরে তার হাঁটুর নিচে কেটে ফেলা হয়। বর্তমানে ইথিওপিয়াতে মা-বাবার সঙ্গে আছেন তিনি। ক্রাচ ও কৃত্রিম অঙ্গ নিয়ে হাঁটেন।

জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার মতে, বছরে দুই লাখের বেশি মানুষ বিপজ্জনক পথে ভ্রমণের চেষ্টা করে। হর্ন অব আফ্রিকা থেকে ইয়েমেনে সমুদ্রপথে পাড়ি দেয় ও এরপর সৌদি সীমান্ত পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করে।

এ অঞ্চলে সমুদ্র পারাপার যথেষ্ট বিপজ্জনক। গত সপ্তাহে জিবুতির উপকূলে একটি জাহাজডুবির ঘটনায় ২৪ জনেরও বেশি অভিবাসী নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এ পথে ভ্রমণের সময় অনেকেই কারাভোগ ও মারধরের শিকার হয়েছেন। এছাড়া ইয়েমেন হয়ে প্রধান অভিবাসী রুটগুলো পথের ধারে মারা যাওয়া মানুষের কবরে ভরা।

এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদেনে গত জুন পর্যন্ত ঘটা ঘটনাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। তবে বিবিসি একাধিক প্রমাণ তুলে ধরে জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে।

অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি সরকার। তবে ‘পরিকল্পিত বা বড় আকারের হত্যা’র অভিযোগ অস্বীকার করেছে তারা। কর্তৃপক্ষ বলছে, সীমিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অভিযোগ আনা হয়েছে। নিশ্চিতভাবে কোনো তথ্য-প্রমাণ খুঁজে পায়নি তারা।