দেশে সামরিক আইন জারির কারণে দ্বিতীয়বারের মতো অভিশংসন ভোটের সম্মুখীন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল। স্বল্পস্থায়ী সামরিক আইন জারির প্রচেষ্টার কারণে আজ শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) তাকে দ্বিতীয়বারের মতো অভিশংসন ভোটের মুখোমুখি হতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত সামরিক আইন জারির সেই পদক্ষেপ হতবাক করেছিল দেশবাসীকে, তার দলকে করেছে বিভক্ত এবং মেয়াদের মাঝামাঝি সময়েই হুমকিতে ফেলেছে তার প্রেসিডেন্ট পদকেও। খবর রয়টার্স।
গত ৩ ডিসেম্বর সামরিক শাসন জারির সিদ্ধান্ত নেয়ার ছয় ঘণ্টার মধ্যেই প্রবল বিরোধিতার মুখে ইউন সেটি প্রত্যাহারে বাধ্য হন। তবে তার এই পদক্ষেপ দক্ষিণ কোরিয়াকে ঠেলে দেয় সাংবিধানিক সংকটের মুখে। আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ইউনের পদত্যাগের দাবি আসতে থাকে চারদিক থেকে।
বিরোধী দলগুলো স্থানীয় সময় আজ বিকাল ৪টায় অভিশংসন ভোটের পরিকল্পনা করেছে। ভোটের আগে বড় ধরনের বিক্ষোভ আয়োজনও করতে চায় তারা।
ইউনের রক্ষণশীল পিপল পাওয়ার পার্টি (পিপিপি) এক সপ্তাহ আগে প্রথম অভিশংসন ভোট বয়কট করেছিল। যার ফলে কোরাম পূরণ করা সম্ভব হয়নি। পিপিপি নেতা হান ডং-হুন দলের সদস্যদের এবার অভিশংসনের পক্ষে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং অন্তত সাতজন পিপিপি সদস্য বলেছেন যে, তারা অভিশংসনের পক্ষে ভোট দেবেন।
বিরোধী দলগুলোর ইউনকে অভিশংসন করতে অন্তত আটটি পিপিপি ভোটের প্রয়োজন, কারণ ৩০০ আসনবিশিষ্ট একক চেম্বারের পার্লামেন্টে বিরোধীদের ১৯২টি আসন রয়েছে এবং অভিশংসনের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন।
ইউনের অভিশংসনকে সমর্থন জানানো পিপিপি সংসদ সদস্য আন চেউল-সু শনিবার এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, তিনি জনগণের জীবিকা, অর্থনীতি ও কূটনীতির দ্রুত স্থিতিশীলতার স্বার্থে অভিশংসনের পক্ষে ভোট দেবেন।
পিপিপি সংসদ সদস্যরা শনিবার সকালে বৈঠক করে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করবেন কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলেন।
বিরোধী প্রধান ডেমোক্রেটিক পার্টি শনিবার বলেছে যে, ইউনের ‘পাগলামি’ আর সহ্য করা যাবে না। দলটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অভিশংসন প্রত্যাখ্যান করা মানে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা। সে সঙ্গে, আরো বেশি সংখ্যক ক্ষমতাসীন দলের সদস্যদের অভিশংসনে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
তবে, গত বৃহস্পতিবারই দ্বিতীয় অভিশংসন প্রচেষ্টার মুখে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন ইউন। তিনি বিরোধী দলের বিরুদ্ধে সরকারকে পঙ্গু করে দেয়ার প্রচেষ্টার অভিযোগ তোলেন।










