২০২৪ সালের জুলাই মাসে লাটভিয়ায় গঠিত হয় ন্যাটোর প্রথম পূর্ণাঙ্গ স্থায়ী ব্রিগেড— ন্যাটো মাল্টিন্যাশনাল ব্রিগেড লাটভিয়া। কানাডার নেতৃত্বে পরিচালিত ব্রিগেডটি আগে একটি ব্যাটালিয়ন আকারে ছিল। ধাপে ধাপে এটিকে সম্প্রসারিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটিতে রূপ দেয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যে এখানে স্থায়ীভাবে ২ হাজার ২০০ জন কানাডীয় সেনা মোতায়েন থাকবে। এটি এখন ন্যাটোর পূর্ব ফ্রন্টে প্রতিরক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

একই বছর, জার্মানি লিথুয়ানিয়ায় অতিরিক্ত সেনা পাঠানো শুরু করে এবং চলতি বছরের মে মাসে দেশটি সেখানে একটি স্থায়ী ব্রিগেড উদ্বোধন করে। এই ব্রিগেডের মাধ্যমে জার্মানি একটি স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি গড়ে তুলেছে, যা ২০২৭ সালের মধ্যে পূর্ণমাত্রায় অপারেশনাল হবে বলে জানানো হয়েছে। সেখানে প্রায় ৫ হাজার সেনা অবস্থান করবে। এটি হবে ন্যাটোর অন্যতম বৃহৎ স্থায়ী ঘাঁটি, যা পূর্ব ইউরোপে জোটের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে নতুন মাত্রায় পৌঁছে দেবে।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে স্পেন স্লোভাকিয়ায় ন্যাটোর ব্যাটলগ্রুপের নেতৃত্ব গ্রহণ করে এবং মাত্র ১০ দিনের মধ্যে একটি ব্রিগেড গঠন করে সবাইকে চমকে দেয়। এটি ছিল ন্যাটোর ইতিহাসে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গড়ে ওঠা একটি ঘাঁটিনির্ভর সামরিক কাঠামো। এই ঘাঁটির মাধ্যমে স্লোভাকিয়ায় ন্যাটোর উপস্থিতি আরো দৃঢ় ও কার্যকর হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালে সুইডেন ঘোষণা দেয়, ফিনল্যান্ডে ন্যাটোর বর্ধিত সামরিক উপস্থিতিতে তারা নেতৃত্বদানকারী দেশের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী। যাকে বলা হয় ফ্রেমওয়ার্ক ন্যাশন রোল। যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি হবে ফিনল্যান্ডে প্রথমবারের মতো ন্যাটোর একটি স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপনের ঘটনা। এই উদ্যোগ স্ক্যান্ডিনেভিয়া অঞ্চলেও ন্যাটোর সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করবে এবং সামগ্রিকভাবে রাশিয়ার প্রতিবেশী অঞ্চলে জোটের কৌশলগত প্রভাব আরো বাড়াবে।

এই নতুন ঘাঁটিগুলোর প্রকৃতি কেবল সেনা মোতায়েনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিটি ঘাঁটির সঙ্গে যুক্ত থাকছে আগাম অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংরক্ষণ সুবিধা, বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উন্নত কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো এবং অঞ্চলভিত্তিক প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা।

ন্যাটোর ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়া বর্তমানে ইউরোপ-আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। নতুন এই ঘাঁটিগুলো ন্যাটোর প্রতিরক্ষা কাঠামোকে আরো শক্তিশালী করে তুলছে। এটি কেবল সামরিক প্রস্তুতি নয়, বরং জোটের ঐক্য, প্রতিশ্রুতি এবং যৌথ কৌশলের বাস্তব রূপ।

উল্লেখ্য, নতুন ঘাঁটির পাশাপাশি পূর্ব ইউরোপে ২০১৭ সাল থেকেই আটটি মাল্টিন্যাশনাল ব্যাটলগ্রুপ রয়েছে। এগুলো অবস্থান করছে এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, পোল্যান্ড, বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া ও স্লোভাকিয়ায়। নেতৃত্ব দিচ্ছে যথাক্রমে যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, হাঙ্গেরি, ফ্রান্স ও স্পেন। বর্তমানে বাকি ব্যাটলগ্রুপকেও ধাপে ধাপে ব্রিগেডে রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

ন্যাটো জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এই ঘাঁটিগুলোর পরিধি বৃদ্ধি কিংবা হ্রাস করা হতে পারে। তবে যতদিন হুমকি থাকবে, ততদিনই পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর এই স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি বজায় থাকবে। জোট আশ্বস্ত করেছে, এই ঘাঁটিগুলো সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক, স্বচ্ছ এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় পরিচালিত হবে।