রিপাবলিকান পার্টির জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত জুলাইয়ে। আর গত বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট)  ডেমোক্রেটিক পার্টির জাতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সম্মেলনের সব আনুষ্ঠানিক। এর মাধ্যমে শুরু হলো আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে কমলা হ্যারিস ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত দৌড়। আগামী ৫ নভেম্বর ভোট হওয়া পর্যন্ত চলবে প্রচারাভিযানের লড়াই।

বেশ অস্থির ও অপ্রত্যাশিত এক চরিত্র নিয়ে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রতিযোগিতা প্রবেশ করছে তার শেষ পর্যায়ে। এ সপ্তাহেই ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কনভেনশনে নিজের প্রচারাভিযানের গতি আরো বাড়িয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। অন্যদিকে, আক্রমণের কৌশলগুলোয় শান দিচ্ছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গ্রীষ্মকালীন জনমত জরিপ ও তহবিল সংগ্রহে এগিয়ে ছিলেন ট্রাম্প। জো বাইডেনকে বিতর্কে নাস্তানাবুদ করেছেন। বাইডেনের বয়স বেশি বলে আক্রমণ করতেও ছাড়েননি। বাইডেনের চেয়ে ট্রাম্পের দিকে যখন হেলে ছিল পাল্লা, সে সময় পেনসিলভানিয়ায় নির্বাচনী প্রচারাভিযানে হত্যা প্রচেষ্টা থেকেও বেঁচে যান রিপাবলিকান প্রার্থী। এ ঘটনা ট্রাম্পের সম্ভাবনা আরো বাড়িয়ে দিয়েছিল বলেও মন্তব্য করেছিলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তবে নির্বাচনী দৌড় থেকে বাইডেনের সরে দাঁড়ানো এবং কমলা হ্যারিসের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার ঘটনা ডেমোক্রেটিক পার্টিতে নতুন উদ্দীপনার সঞ্চার করেছে। বেশ কিছু জনমত জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের সঙ্গে কেবল ব্যবধানই কমাচ্ছেন না হ্যারিস, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে তিনি এগিয়েও গেছেন। ডেমোক্র্যাটরা এখন উদ্যম নিয়ে এগোচ্ছে। ২৭০ ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট নিশ্চিত করার লক্ষ্য তাদের।

ট্রাম্প গতকাল শুক্রবার (২৩ আগস্ট) অ্যারিজোনায় রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রের সঙ্গে প্রচারণায় অংশ নিয়ে আবারো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী কেনেডি কয়েক ঘণ্টা আগেই তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণা স্থগিত করে বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোতে ব্যালট থেকে নিজের নাম সরিয়ে নিচ্ছেন তিনি, যাতে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত না হয়।

গ্লেনডেলে এই নির্বাচনী প্রচারাভিযানে ট্রাম্প সম্পর্কে কেনেডি জুনিয়র উপস্থিত সমর্থকদের বলেন, আপনি কি এমন একজন প্রেসিডেন্ট চান না যিনি আমাদের যুদ্ধে থেকে মুক্তি দেবেন এবং এই দেশে মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে পুনর্গঠিত করবেন?

কেনেডির সরে দাঁড়ানোয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে দুই ঘোড়ার রেস। সম্মেলনও শেষ। এখন তাদের মুখোমুখি লড়াই দেখা যাবে এবিসি আয়োজিত ১০ সেপ্টেম্বরের বিতর্কে। প্রচারাভিযানগুলোতে দ্বিতীয় বিতর্কে অংশ নেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে কোথায়, কখন এবং কে এটি আয়োজন করবে তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।