মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিসরের অংশগ্রহণে গাজায় যুদ্ধবিরতির বিষয়ে দুদিনের আলোচনার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ‘গাজায় যুদ্ধবিরতির একেবারে কাছাকাছি পৌঁছানো গেছে, যা আগে সম্ভব হয়নি।’ এদিকে গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী হামাস বলেছে, যুদ্ধবিরতির আলোচনায় নতুন শর্তের কারণে তারা এটি প্রত্যাখ্যান করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন তা চুক্তি সইয়ের ‘‘খুব, খুব কাছাকাছি’’ পৌঁছেছে।’ বাইডেন সমঝোতায় নিযুক্ত তার প্রতিনিধিদের শুক্রবার পেশ করা নতুন প্রস্তাব সামনে এগিয়ে নিতে বলেছেন। প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চূড়ান্ত সমঝোতায় উপনীত হওয়া ও জিম্মি মুক্তির ভিত্তি রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল–থানি ও মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল–সিসির সঙ্গে আলাপ করেছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে জোরালো সমর্থন দিয়েছেন।
যুদ্ধবিরতিতে ইসরায়েল নতুন করে চারটি শর্ত দিয়েছিল। যেগুলো হলো মিসর সীমান্ত বরাবর গাজায় ইসরায়েলি সৈন্যের উপস্থিতি, ইসরায়েলি জিম্মি মুক্তির বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে তেলআবিবের ভেটো দেয়ার অধিকার ও কিছু বন্দিকে গাজায় ফেরত না পাঠিয়ে বরং অন্যত্র নির্বাসন দেয়া। যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার নতুন শর্তাবলি প্রত্যাখ্যান করেছে হামাস।
হামাসের দাবি, গত ৩১ মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট গাজায় যুদ্ধবিরতির যে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছিলেন, তার ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হোক। নতুন করে আর কোনো আলোচনার প্রয়োজন নেই। সে কারণে ১৫ আগস্ট থেকে দুই দিনব্যাপী কাতারের রাজধানী দোহায় আলোচনায় কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি হামাস। এ আলোচনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিসরের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
২৫ বছরের মধ্যে গাজায় প্রথম পোলিও শনাক্ত গাজায় ২৫ বছরের মধ্যে প্রথমবার পোলিও ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। অবরুদ্ধ উপত্যকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রামাল্লায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজার ১০ মাস বয়সী এক শিশুর শরীরে পোলিওর উপসর্গ দেখেন চিকিৎসকরা। জর্ডানের রাজধানী আম্মানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রোগটি ধরা পড়ে।
জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, যুদ্ধের মধ্যে গত জুনে গাজার বর্জ্য পানি থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় টাইপ-২ পোলিও ভাইরাস ধরা পড়েছিল।
জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস ৬ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি শিশুকে টিকা দেয়ার জন্য সাতদিন করে দুই দফায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছিলেন। এর পর পরই পোলিও ধরার বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ জানিয়েছে, তারা টাইপ-২ পোলিও ভাইরাস (সিভিডিপিভি২) মোকাবেলায় গাজায় সাতদিন করে দুই দফায় টিকাদান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। চলতি মাসের শেষে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হতে পারে।
সংস্থা দুটি এক বিবৃতিতে বলেছে, যুদ্ধবিরতি হলে শিশু ও পরিবারগুলো নিরাপদে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পৌঁছতে পারবে। একইভাবে টিকার জন্য যারা কেন্দ্রে যেতে পারবে না তাদের দোরগোড়ায় যেতে পারবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।
এদিকে দক্ষিণ ও উত্তর গাজা থেকে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের ফের অন্যত্র সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। মূলত গাজায় নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে প্রতিদিনই নিরীহ ফিলিস্তিনিরা প্রাণ হারাচ্ছে।
গত ৭ অক্টোবরের পর গাজায় চালানো ইসরায়েলি হামলায় ৪০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছে। আহত হয়েছে ৯২ হাজার ৪০১ জন।
তাছাড়া ইসরায়েলকে আরো ২ হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই মধ্যে এর অনুমোদনও দেয়া হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার গোষ্ঠীর চাপ সত্ত্বেও ইসরায়েলকে অব্যাহত অস্ত্র সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে দেশটি।










