চলতি বছরের শেষ প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো। এতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লড়াই এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘সুরক্ষাবাদী’ নীতি সৃষ্ট নতুন বাজার অনিশ্চয়তা। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, মার্কিন শুল্কনীতির কারণে দেশটিতে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি আরো বাড়তে পারে। এ কারণে অন্য দেশগুলোর নীতিনির্ধারকরা সতর্কতামূলক অবস্থানে রয়েছেন। খবর আনাদোলু।
গত মাসে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) চলতি বছরে প্রথমবারের মতো সুদহার কমিয়েছে। সুদহার ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪ থেকে ৪ দশমিক ২৫ শতাংশে।
সুদহার কর্তন বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের পূর্বাভাস ছিল বিশ্লেষকদের। তখন ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল বলেছিলেন, ‘কর্মসংস্থান খাতে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক ঝুঁকির ভারসাম্যে পরিবর্তন এসেছে। তবে এ পরিস্থিতি ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমানোর মতো গুরুতর নয়।’
আগামী ২৯ অক্টোবর আরেক দফা বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটি (এফওএমসি)। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ বৈঠকে আবারো ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদহার কমতে পারে। পুরো বছরে ফেড সর্বোচ্চ ৫০ বেসিস পয়েন্ট সুদহার কমাবে। তবে কর্মসংস্থানের ঝুঁকি যদি কমে যায়, তাহলে অক্টোবর বা ডিসেম্বরে কোনো এক বৈঠকে সুদহার কমানো নাও হতে পারে।
এশিয়ায় প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বিবেচিত ব্যাংক অব জাপান (বিওজে) গত মাসে সুদহার অপরিবর্তিত রেখেছে, যা এখন দশমিক ৫ শতাংশ। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অক্টোবরের বৈঠকেও জাপানে সুদহার অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে বছরের শেষে ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাংক অব কোরিয়া আগস্টে সুদহার ২ দশমিক ৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে। অর্থনৈতিক ধীরগতি ও শুল্কজনিত অনিশ্চয়তা প্রবৃদ্ধি নিয়ে শঙ্কা তৈরি হওয়ায় আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আগামী ২৩ অক্টোবর নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করবে ব্যাংক অব কোরিয়া। তবে কী ধরনের সিদ্ধান্ত আসবে, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত পূর্বাভাস নেই।
নিউজিল্যান্ডের রিজার্ভ ব্যাংক গত মাসেই সুদহার কমানোর বিষয়ে নিশ্চিত অবস্থান নিয়েছে। ৮ অক্টোবর ব্যাংকটি ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমানোর সিদ্ধান্ত নেবে বলে বাজারসংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করছেন।
অন্যদিকে ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক (ইসিবি) সেপ্টেম্বরে সর্বশেষ বৈঠকে তিনটি প্রধান সুদহার অপরিবর্তিত রেখেছে। এর আগে চলতি বছর ব্যাংকটি মোট ১০০ বেসিস পয়েন্ট সুদহার কমিয়েছে। জুলাইয়ের পর থেকে সুদহার কর্তন বন্ধ রাখা হয়েছে।
আগস্টে ইউরোজোনে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ২ শতাংশে, যা পূর্বাভাসের চেয়ে কম এবং ব্যাংকের মধ্যমেয়াদি লক্ষ্য পূরণের কাছাকাছি। ফলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসিবি আপাতত আর সুদহার কমাবে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন ফেড, বিওজে, ইসিবি, দক্ষিণ কোরিয়া ও নিউজিল্যান্ড—সব কেন্দ্রীয় ব্যাংকই মুদ্রানীতি নিয়ে চতুর্থ প্রান্তিকের শুরুতে সাবধানী অবস্থান অব্যাহত রাখছে। বিশ্ব অর্থনীতি শুল্কনীতি, মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধি অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। তাই প্রতিটি দেশের নীতিনির্ধারকের সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক বাজারের দিক নির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।










