দক্ষিণ কোরিয়া শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে পরিচিত। তবে পরিস্থিতি সবসময় এমন ছিল না। বর্তমানে এশিয়ার গণতন্ত্রের রোল মডেল হলেও এর অতীত ছিল অস্থিতিশীল ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের। স্বাধীনতার প্রথম ৪০ বছরে দেশটিতে স্বৈরশাসনের অধীনে ১৬ বার সামরিক আইন জারি করা হয়। সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত হওয়ায় সেখানে গণতন্ত্রের মূল্যায়ন গভীরভাবে করা হয়। এজন্য মঙ্গলবার দেশটির প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল সামরিক আইন জারি করলে তীব্র ও আবেগময় প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। যদিও পরবর্তী সময় তিনি এজন্য ক্ষমা চেয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন জেগেছে, সামরিক আইনের ঐতিহাসিক পুনরাবৃত্তি হবে? খবর বিবিসি।
দক্ষিণ কোরিয়ায় গত ৪৫ বছরে এ প্রথম সামরিক আইন জারি করা হয়। এর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই সংসদের আইনপ্রণেতারা ছুটে যান এবং সামরিক আইন প্রত্যাহারের দাবি জানান। সংসদ সদস্যদের বিতাড়িত করতে জড়ো হওয়া সৈন্যদের ঠেকাতে কয়েক হাজার সাধারণ নাগরিক ছুটে যান। কিছু সৈন্যকে তাদের দেয়া আদেশ মান্য করতে অনিচ্ছুক বলেও মনে হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল সামরিক আইন জারির সময় দাবি করেন, উত্তর কোরিয়ার কমিউনিস্ট বাহিনীর হুমকি থেকে উদারপন্থী দক্ষিণ কোরিয়াকে সুরক্ষা দিতে এবং রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন শক্তি নির্মূলে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তবে উপযুক্ত প্রমাণের অভাব ও আগেও একই ধরনের শব্দ ব্যবহার করায় বিরোধীদের লক্ষ্য করাকেই মূল উদ্দেশ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে এ সামরিক আইন জারিকে। যদিও অতীতে বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবেলা বা অভিযুক্ত উত্তর কোরিয়ার গুপ্তচরদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সামরিক আইন জারিকে ন্যায়সঙ্গত হিসেবে দেখানো হয়েছে।
১৯৮০ সালে গোয়াংজুতে গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকারীদের দমন করার সময় সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাগুলোর একটি ঘটে, যা ম্যাসাকারে রূপ নেয়। সরকারি হিসাবে নিহতের সংখ্যা ১৯৩ হলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন প্রকৃত সংখ্যা আরো অনেক বেশি।
দক্ষিণ কোরিয়ায় জনগণের চাপে ১৯৮৮ সালে প্রথম অবাধ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে সামরিক শাসনের এর আগের বছরগুলো দক্ষিণ কোরীয়দের মানসিকতায় দীর্ঘদিন প্রভাব ফেলেছে। অনেকেই এ ধরনের অভিজ্ঞতা আর দেখতে চান না বলে জানান। এখনকার প্রজন্মের কাছে সেসব দিনের কথা অনেকটাই অজানা। তবে বিভিন্ন সিনেমা ও ডকুমেন্টারির সাহায্যে তা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তারা সেসব দিনের কথা জেনে পুনরায় সামরিক শাসন আসতে পারে এমন সম্ভাবনা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
অধ্যাপক মেসন রিচি বলেন, বেশির ভাগ দক্ষিণ কোরীয় গণতন্ত্রকে মূল্যায়ন এবং দেশটির অতীত স্বৈরশাসনকে কালো অধ্যায় মনে করেন। তবে কমিউনিস্ট হুমকি প্রতিরোধ করতে কিছু কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ কতটা যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে মতভেদ রয়ে গেছে। কিছু বয়স্ক ব্যক্তি অতীতে সামরিক আইন জরুরি ছিল বলে অভিমত দিলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে অপ্রয়োজনীয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।










