ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করেছেন যে তার সামরিক বাহিনী রাশিয়ার ভেতরে আক্রমণ চালাচ্ছে। রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী কুর্স্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় সেনারা প্রবেশ করেছে। শনিবার (১০ আগস্ট) একটি ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। খবর বিবিসি।

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) কিয়েভ আকস্মিক আক্রমণ চালিয়ে রাশিয়ার ভেতরে প্রায় ১০ কিলোমিটার (৬ মাইল) অগ্রসর হয়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার হামলা শুরু করার পর থেকে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী রুশ ভূখণ্ডের এতোটা ভেতরে আর কখনো অগ্রসর হতে পারেনি।

স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোববার ভোরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ আরও কয়েকটি অঞ্চলে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো শহরে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করেছেন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলি এ ধরনের হামলা প্রতিহত করতে কাজ করছে বলে জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে তিনি বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানান।   

শনিবারের ভাষণে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ইউক্রেনের যোদ্ধাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, রাশিয়ায় অভিযান নিয়ে তিনি দেশের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার অলেকজান্ডার সিরস্কির সঙ্গে আলোচনা করেছেন।  তিনি আরো বলেন, ইউক্রেন প্রমাণ করেছে যে তারা ন্যায়বিচার পুনরুদ্ধার করতে এবং আগ্রাসীর ওপর প্রয়োজনীয় চাপ নিশ্চিত করতে সক্ষম।

 

এ পর্যন্ত রাশিয়া ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। যার ফলে তিনটি অঞ্চলে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে মস্কো। এই অঞ্চলগুলো হলো— ইউক্রেন সীমান্তবর্তী কুর্স্ক, বেলগোরদ এবং ব্রিয়ানস্ক। কুরস্কের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ৭৬ হাজারেরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

কুর্স্কের গভর্নর আলেক্সেই স্মিরনভ জানিয়েছেন, শনিবার রাতে কুর্স্কের আঞ্চলিক রাজধানীতে একটি বহুতল ভবনে ইউক্রেনীয় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ১৩ জন আহত হয়েছে। রাশিয়ার পার্শ্ববর্তী ভোরোনেজ এবং বেলগোরদ অঞ্চলের গভর্নররাও রাতভর ইউক্রেনীয় ড্রোন আক্রমণের কথা জানিয়েছেন। তবে তারা কোনো আহত হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করেননি।

এসব অঞ্চলে সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যার মধ্যে রয়েছে যানবাহন ও নাগরিকদের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ এবং ফোনে আড়িপাতা।