দীর্ঘ নয় বছরের বেশি সময় ধরে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। তবে দেশটির লাগামহীন মূল্যস্ফীতি ও আবাসন সংকটের জেরে তার জনপ্রিয়তা দিন দিন তলানির দিকে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ট্রুডোর জোট সরকারের প্রধান শরিক দল নিজেদের সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। এতদিন এ দলের সমর্থনের ওপর ভর করেই ক্ষমতায় রয়েছেন তিনি। তাই আগামী বছরের শুরুর দিকে ট্রুডো ক্ষমতা হারাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্রুডোর সংখ্যালঘু লিবারেল সরকারকে সমর্থনকারী দল নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) ঘোষণা করেছে, তারা সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনবে। খবর রয়টার্স।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শীতকালীন বিরতির পর ২৭ জানুয়ারি পার্লামেন্ট শুরু হলে এ অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। বিরোধী সব দল প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলে ট্রুডোর সরকারের পতন ঘটবে। এনডিপির নেতা জগমিত সিং সরাসরি বলেছেন, এ সরকারের সময় শেষ। আমরা পরবর্তী অধিবেশনে অনাস্থা প্রস্তাব আনব।

এনডিপি অভিযোগ করেছে, ট্রুডো সরকার করপোরেট স্বার্থে বেশি মনোযোগী। এরই মধ্যে বিরোধী দল ব্লক কুইবেকোয়াও প্রস্তাব সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বিভিন্ন জনমত জরিপ বলছে, ট্রুডোর জনপ্রিয়তা এখন তলানিতে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আবাসন সংকট এবং দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকায় ভোটাররা বিপর্যস্ত। নির্বাচনে তার দল বড় পরাজয়ের মুখোমুখি হতে পারে।

অন্যদিকে এনডিপি নিজেরাও রাজনৈতিক ঝুঁকির মুখে। জরিপে তাদের অবস্থান খুব একটা ভালো নয়। তবে জগমিত সিং মনে করছেন, লিবারেলদের পতন ঘটিয়ে কেন্দ্রে বামপন্থী ভোটারদের সমর্থন টেনে আনার এটি সুযোগ হতে পারে।

ট্রুডো সরকারকে হটাতে আরো এক ধাপ এগিয়ে কনজারভেটিভরা। দলটি বলছে, এ বছর শেষের আগেই অনাস্থা ভোটের জন্য পার্লামেন্টের অধিবেশন ডাকতে গভর্নর জেনারেল মেরি সাইমনের কাছে আবেদন জানাবে তারা। মেরি সাইমন কানাডার রাষ্ট্রপ্রধান রাজা চার্লসের ব্যক্তিগত প্রতিনিধি। তবে সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাইমন এমন পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করতে পারেন।

কনজারভেটিভ নেতা পিয়ের পোলিয়েভর সাংবাদিকদের বলেন, ‘‌আমরা একটি বিশৃঙ্খল সরকার আর সহ্য করতে পারছি না। জাস্টিন ট্রুডোর ওপর পার্লামেন্টের আস্থা নেই।’

ট্রুডোর সংকট আরো গভীর হয়েছে অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডের আকস্মিক পদত্যাগের কারণে। তার এ পদত্যাগ ট্রুডোর ওপর চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। লিবারেল দলের ভেতরেই এখন বেশকিছু সদস্য তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানাচ্ছেন। তবে ট্রুডোর মন্ত্রিসভা এখনো তার প্রতি অনুগত রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, কানাডা থেকে আমদানীকৃত পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ কর আরোপ করা হবে। এ কর কানাডার অর্থনীতিতে বড় আঘাত হানবে। দেশের ১০টি প্রদেশের প্রাদেশিক মন্ত্রিপরিষদের প্রধান এ সংকটে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

জানুয়ারির পার্লামেন্ট অধিবেশনে নির্ধারিত হবে জাস্টিন ট্রুডো তার দলকে কতটা টিকিয়ে রাখতে পারবেন। নাকি এ সংকটই তার ক্ষমতার অবসান ঘটাবে।