যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবারো পারমাণবিক আলোচনায় বসতে প্রস্তুত ইরান। এজন্য একটি শর্ত দিয়েছে দেশটি, তা হলো নতুন করে যেন কোনো হামলা না চালানো হয়। তেহরানে নিযুক্ত বিদেশী কূটনীতিকদের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘‌আলোচনায় বসলে তা যেন যুদ্ধের দিকে না যায়, এ নিশ্চয়তা আগে দিতে হবে।’ খবর এপি ও দ্য গার্ডিয়ান।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের একটি পারমাণবিক স্থাপনা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর আগে ১২ দিন ধরে ইসরায়েলও ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় একের পর এক হামলা চালায়। এমন পরিস্থিতিতে ইরান বলে দিয়েছে, আলোচনায় ফিরতে হলে এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে। তা না হলে আলোচনা ‘আরো কঠিন ও জটিল’ হয়ে উঠবে।

হামলার পর আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে সব ধরনের সহযোগিতা স্থগিত করে ইরান। তবে দেশটি জানিয়েছে, ভবিষ্যতে জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি অনুরোধ আলাদাভাবে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

ইরান আরো জানিয়েছে, পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার ফলে সেখানে তেজস্ক্রিয় উপাদান ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি অব্যবহৃত গোলাবারুদ বিস্ফোরণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এসব ঝুঁকির কারণে সংশ্লিষ্টদের জন্য ওইসব এলাকায় কাজ করা বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ইসরায়েলের গ্যাস চুক্তি নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর ইউরোপে গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে ২০২২ সালে ইসরায়েল ও মিসরের সঙ্গে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করে ইইউ। এ চুক্তির আওতায় ইসরায়েল থেকে গ্যাস আসে মিসরের আরিশে, সেখান থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) হিসেবে রফতানি হয় ইউরোপে।

কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, এ গ্যাস পাইপলাইন ফিলিস্তিনি জলসীমা দিয়ে চলে গেছে এবং এজন্য ফিলিস্তিনিদের কোনো সম্মতি নেয়া হয়নি। এমনকি আর্থিক, পরিবেশগত বা নিয়ন্ত্রক কোনো শর্ত আরোপের সুযোগও তাদের দেয়া হয়নি।

মানবাধিকার সংগঠন গ্লোবাল উইটনেস বলছে, এ চুক্তির মাধ্যমে ইইউ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে এবং ফিলিস্তিনের সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করছে।

ইউরোপীয় আইন বিশেষজ্ঞ গ্লেইডার হারনান্দেজ বলেন, ‘‌ইসরায়েল একটি দখলদার শক্তি হিসেবে তাদের দায়িত্ব লঙ্ঘন করছে, আর ইউরোপ এ চুক্তি করে কার্যত সে অবস্থানকেই সমর্থন দিচ্ছে।

ফলে একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ চায় ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করে, অন্যদিকে তারা ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ জ্বালানি ও সামরিক সম্পর্ক বজায় রাখছে। ইরান ও তার মিত্রদের দৃষ্টিতে এটিকে পক্ষপাতমূলক বা বৈষম্যপূর্ণ মনে হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ দ্বিমুখী অবস্থানের কারণে ইরানের আস্থাহীনতা বাড়ছে। পারমাণবিক আলোচনায় তারা হয়তো ফিরবে, তবে সেটা নির্ভর করছে পশ্চিমা শক্তিগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর। হামলা, নিষেধাজ্ঞা আর পক্ষপাতমূলক চুক্তির পরিবেশে স্থায়ী সমঝোতার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে উঠছে।