মিয়ানমারে সামরিক জান্তা-বিরোধী সশস্ত্র দুটি গোষ্ঠীর মাঝে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। চলমান এ সংঘর্ষে প্রাণ বাঁচাতে গত চার দিনে প্রায় ৪ হাজার মানুষ ভারতে পালিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মিজোরামের কর্মকর্তারা। খবর রয়টার্স।

ভারতের সিনিয়র এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, গত ২ জুলাই মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় চিন রাজ্যের কৌশলগত বিভিন্ন এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই গোষ্ঠী চিন ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্স (সিএনডিএফ) ও চিনল্যান্ড ডিফেন্স ফোর্স-হুয়ালংরাম (সিডিএফ-এইচ) মাঝে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সেদিন থেকেই চিন রাজ্যের হাজার হাজার শরণার্থী সীমান্ত পেরিয়ে মিজোরামে ঢুকতে শুরু করেন। গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, চিন রাজ্যে সংঘর্ষ শুরুর পর থেকে প্রায় ৪ হাজার শরণার্থী সীমান্ত পেরিয়ে মিজোরামে পাড়ি জমিয়েছেন।

মিজোরাম রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব ভানলালমাওইয়া জানান, সীমান্ত ঘেঁষা ঘন বনাঞ্চল পেরিয়ে এসব শরণার্থী ভারতে প্রবেশ করেছে। তারা মিয়ানমারের প্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র চিন গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ থেকে পালিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, ‘অনেকের আত্মীয়স্বজন ভারতের দিকেই থাকেন, ফলে তারা সেখানেই অবস্থান করছেন। অন্যদের স্থানীয় কমিউনিটি হলে আশ্রয় দেয়া হয়েছে।’

এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘গত চার দিনে আনুমানিক ৪ হাজার মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে এসেছে।’ পুলিশ জানিয়েছে, সেনা শাসন বিরোধী এই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে চিনল্যান্ড অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘সীমান্তের ওপারে পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত, তাই আমরা তাদের ফিরে যেতে বলিনি।’

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ চলছে এবং এরই মধ্যে মিজোরাম রাজ্যে ৩০ হাজারের বেশি মিয়ানমার শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে।