সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কসহ শতাধিক সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের (এসওএইচআর) বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দাবি, তেল আবিবের নিরাপত্তা নিশ্চিতেই নেয়া হচ্ছে এমন পদক্ষেপ। খবর বিবিসি।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে ধারণা করা হচ্ছে এমন একটি গবেষণা কেন্দ্রকেও ইসরায়েল তাদের লক্ষ্যবস্তু করেছে।
ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা চরমপন্থীদের হাতে অস্ত্র চলে যাওয়া ঠেকাতে এই পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা আসাদ সরকার পতনের পর আরো জরুরি হয়ে পড়েছে।
গতকাল সোমবার (৯ ডিসেম্বর) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে বৈঠকে বসে, যা প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর নতুন মোড় নিয়েছে।
এসওএইচআর আরো জানিয়েছে, গত দুই দিনে সিরিয়ায় শত শত ইসরায়েলি বিমান হামলা হয়েছে, যার মধ্যে দামেস্কের একটি স্থাপনাও রয়েছে। ওই স্থাপনাটি রকেট উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থাপনাটিতে ইরানি বিজ্ঞানীরা কাজ করছিলেন।
এই হামলার পটভূমিতে সন্দেহজনক রাসায়নিক অস্ত্রের মজুদ নিরাপদ রাখার জন্য জাতিসংঘের রাসায়নিক অস্ত্র পর্যবেক্ষক সংস্থা ওপিসিডব্লিউ সিরিয়ার কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছে।
সিরিয়ার কাছে কোথায় এবং কত রাসায়নিক অস্ত্র রয়েছে, তা জানা যায়নি। তবে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে সন্দেহ করা হয় যে, তিনি তার ঘোষণায় অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়েছিলেন এবং গোপনে অস্ত্র মজুত করেছিলেন।
এদিকে আসাদ সরকারের পতনের পর গোলান মালভূমির সিরিয়া-নিয়ন্ত্রিত এলাকা ‘দখলে’ নিয়েছে ইসরায়েল। শুধু তাই নয়, ইসরায়েলি বাহিনী কৌশলগত এলাকার ইসরায়েল-অধিকৃত অংশের কাছাকাছি পাঁচটি গ্রামে বসবাসকারী সিরীয়দের ‘ঘরে থাকতে’ সতর্ক করেছে।
১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরায়েল গোলান মালভূমির একটি অংশ দখল করে এবং এটিকে সংযুক্ত করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এটিকে সিরিয়ার ভূখণ্ড বেআইনিভাবে দখল করা বলেই মনে করে।
সোমবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, গোলান মালভূমির সিরিয়া-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ইসরাইলি অনুপ্রবেশকে ‘একটি বিপজ্জনক পদক্ষেপ এবং সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের ওপর নির্লজ্জ আক্রমণ, পাশাপাশি এটিকে দোহা আন্তর্জাতিক আইনের ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করে।
সৌদি আরবও ইসরাইলি পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ইসরায়েলি পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের ক্রমাগত লঙ্ঘন এবং সিরিয়ার নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাকে দূরে ঠেলে দিতে পারে।
অন্যদিকে বাগদাদ ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেছে, তেল আবিব ‘আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন’ করেছে।










