সপ্তাহব্যাপী ইউক্রেনের আক্রমণ অব্যাহত থাকায় রাশিয়া দ্বিতীয় সীমান্ত থেকে রুশ বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিচ্ছে। রাশিয়ার একটি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, বেলগোরদ অঞ্চলের প্রায় ১১ হাজার মানুষকে নিরাপত্তার স্বার্থে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। খবর বিবিসি।

গত মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) বেলগোরদে ইউক্রেনীয় সেনারা রাশিয়ার ভূখণ্ডে আকস্মিক আক্রমণ শুরু করেছিল। এর পর থেকে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী রাশিয়ার ভেতরে প্রায় ১৮ মাইল (৩০ কিলোমিটার) অগ্রসর হয়েছে। এই প্রথম ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী রুশ ভূখণ্ডের এতোটা ভেতরে অগ্রসর হতে পেরেছে।

সোমবার (১২ আগস্ট) সকালে বেলগোরদ অঞ্চলের কিছু অংশের বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে এলাকা খালি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আবার কু্র্স্ক অঞ্চল থেকেও লোকজনকে সরিয়ে নেয়া অব্যাহত রয়েছে।

বেলগোরদের গভর্নর ভিয়াচেস্লাভ গ্ল্যাডকভ জানিয়েছেন, সীমান্তে শত্রু কার্যকলাপ চলমান থাকায় ক্রাসনায়া ইয়ারুগা জেলা থেকে সাধারণ জনগণকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পুরো অঞ্চলটিতে মিসাইল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মানুষকে মজবুত দেয়ালসহ জানালা ছাড়া কক্ষে আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গভর্নর।

গ্ল্যাডকভ এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, আমাদের সেবাকর্মীরা উদ্ভূত হুমকি মোকাবেলায় সবকিছু করবে। ইতিমধ্যে, সাধারণ মানুষের অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, কুর্স্ক থেকে প্রায় ২ হাজার বারের মতো ইউক্রেনে হামলা চালানো হয়েছিলো। তাই এখন যা হচ্ছে তার সবটাই হলো রাশিয়ার প্রাপ্য প্রতিক্রিয়া।

এদিকে ইউক্রেনের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এএফপি সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, এই অভিযানে হাজার হাজার সৈন্য অংশ নিচ্ছে যা রাশিয়ান সীমান্তরক্ষীদের চেয়ে সংখ্যায় অনেক বেশি। একে রুশ ভূখণ্ডে পরিচালিত সবচেয়ে বড় আক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।