যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কারণে ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে আফ্রিকার দেশগুলো। ট্রাম্প এ শুল্ককে ‘পারস্পরিক’ হিসেবে তুলে ধরলেও তা মূলত দেশগুলোর সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতির ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়েছে। যার ফলে আফ্রিকার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। আর এ সংকটের সুযোগটিই নিচ্ছে চীন । তারা বলেছে, আফ্রিকার অধিকাংশ দেশের পণ্য আমদানিতেই শুল্কমুক্ত সুবিধার সুযোগ রাখবে দেশটি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বহুদিন ধরে আফ্রিকার দেশগুলোকে পাশে রাখার চেষ্টা করেছে চীন, এবং বর্তমান পরিস্থিতিতেও তাদের সহায়তা দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক শূন্যতা পূরণে আফ্রিকা চীনের দিকে ঝুঁকছে, যারা এরই মধ্যে আফ্রিকার বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। দক্ষিণ আফ্রিকার বাণিজ্যে চীন এখন বড় ভরসা। তবে সতর্কতাও রয়েছে যে, চীনা পণ্য যদি বাজার দখল করে, আফ্রিকার নতুন শিল্পগুলো বিপদে পড়তে পারে।
নাইজেরিয়ার অর্থনীতিবিদ বিসমার্ক রেওয়ান সিএনএনকে বলেন, ‘আমরা (আফ্রিকা) সরাসরি চীনের হাতে চলে যাচ্ছি। এটাই হলো দুর্ভাগ্যজনক পরিণতি। কেননা আফ্রিকা যখন চীনের দিকে আরো ঝুঁকছে যা গত কিছু বছরে মহাদেশটির বৃহত্তম দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য অংশীদারে পরিণত হয়েছে।’ তার এই মন্তব্য আফ্রিকান দেশগুলোর ওপর চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং অর্থনৈতিক নির্ভরতার ইঙ্গিত দেয়।
আফ্রিকার দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানিকৃত পণ্যের ওপর ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ হয়েছে। যেখানে লিবিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, তিউনিসিয়া ও আলজেরিয়ার মত দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ হারে শুল্ক বসানো হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা বলছে, এই হার বাণিজ্য তথ্যের ভুল বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ১৮টি দেশ ১৫ শতাংশ হারে সংশোধিত শুল্ক সুবিধা পেয়েছে।
এমনকি ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কারণে লেসোথোর মত ক্ষুদ্র ও দরিদ্র অর্থনীতিকেও পড়তে হয়েছে গভীর খাতে। দেশটি প্রথমে ৫০ শতাংশ শুল্ক পেলেও সেটা এখন ১৫ শতাংশ। লেসোথোর প্রধানমন্ত্রী স্যামুয়েল ম্যাটেকানে জুন মাসে বলেন, ‘প্রচণ্ড শুল্ক এবং ২০ লাখের একটু বেশি জনসংখ্যার এই দেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য বন্ধ হওয়ার ফলে আমাদের শিল্পগুলো ভেঙে পড়ছে। হাজার হাজার মানুষের চাকরি হারিয়ে গেছে।’
অন্যদিকে চীন আফ্রিকান দেশগুলোর জন্য শুল্কমুক্ত আমদানির ঘোষণা দিয়েছে। যা দেশগুলোর বাণিজ্যকে শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গবেষক নিও লেটসওয়ালো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্ব হারাচ্ছে, চীন এগিয়ে আসছে।’
তবে বিশ্লেষকেরা সতর্ক করছেন—যদি সুরক্ষা না থাকে, চীনা পণ্য পুরো বাজার দখল করতে পারে। কেননা ভারসাম্যহীন চুক্তি হলে সেটা চীনের পক্ষেই যাবে। এক্ষেত্রে আফ্রিকান মহাদেশীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কাজে আসতে পারে। কিন্তু বাস্তবায়নের ধীরগতির কারণে এখন পর্যন্ত আশার আলো দেখা যায়নি।
আফ্রিকাকে অভ্যন্তরীণভাবে শক্তিশালী হতে হবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ বিসমার্ক রেওয়ানে। আবার অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এ সংকট বৈশ্বিক বাণিজ্যে আফ্রিকার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজে আসতে পারে। চীন হতে পারে বিকল্প, তবে আফ্রিকা এখন চাইছে নিজেদের ভেতরেই বাণিজ্য বাড়াতে।










