পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারে অভ্যুত্থানের
ঘোষণা দিয়েছে সেনাবাহিনী। গতকাল বুধবার (২৬ জুলাই) সকালে প্রেসিডেন্ট গার্ডের সেনাদের
হাতে আটক হন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বাজুম। খবর বিবিসি।
সেনারা বলছে, সংবিধান ভেঙে দিয়ে সব প্রতিষ্ঠান
স্থগিত করা হয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দেশের সীমান্ত।
এক ফোন কলে বাজুমের প্রতি ওয়াশিংটনের
‘অটল সমর্থন’ ব্যক্ত
করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও জানান,
প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছেন ও তার ওপর জাতিসংঘের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।
জোরপূর্বক ক্ষমতা দখলের এই প্রচেষ্ঠার
নিন্দা জানিয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার অর্থনৈতিক ব্লক ইকোওয়াস।
পশ্চিম আফ্রিকায় সশস্ত্র ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পশ্চিমাদের মিত্র মোহাম্মদ বাজুম।
দুই প্রতিবেশী দেশ মালি ও বুরকিনা ফাসো
সাম্প্রতিক বছরে এ দলগুলোর বিদ্রোহের কারণে অভ্যুত্থানের সম্মুখীন হয়েছে।
গতকাল টিভিতে নয়জন ইউনিফর্মধারী সেনাকে
নিয়ে হাজির হন সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মেজর আমাদু আবদ্রামান। তিনি জানান, দেশটির
প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনী বাজুমের শাসনের অবসান ঘটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আরো জানান, নিরাপত্তা পরিস্থিতির ক্রমাগত
অবনতি এবং দুর্বল অর্থনৈতিক ও সামাজিক শাসনের কারণে তারা এই পথ বেছে নিয়েছেন।
সব প্রতিষ্ঠান স্থগিতের পাশাপাশি বহিরাগত অংশীদারদের হস্তক্ষেপ না করার আহ্বানও জানান তিনি। পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত স্থল ও আকাশ সীমান্ত বন্ধ রাখা হয়েছে।
সঙ্গে যোগ করেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া
পর্যন্ত স্থানীয় সময় রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর থাকবে।
কর্নেল মেজর আবদ্রামানে বলেন, সৈন্যরা
ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর দ্য সেফগার্ড অব দ্য হোমল্যান্ডের (সিএনএসপি) হয়ে কাজ করছিল।
প্রেসিডেন্ট বাজুম ২০২১ সালে গণতান্ত্রিকভাবে
নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার অভ্যুত্থানের দেশটির রাজধানীতে বিক্ষোভ দেখা যায়।
১৯৬০ সালে ফ্রান্স থেকে স্বাধীনতা লাভ
করে নাইজার। এরপর থেকে চারটি অভ্যুত্থানের সম্মুখীন হয়েছে দেশটি। এছাড়া অসংখ্য অভ্যুত্থানের
চেষ্টা দেখা গেছে।










