এছাড়া ফিলিস্তিনি এ উপত্যকায় উদ্ধার করা হয়েছে নিখোঁজ আটজন চিকিৎসকের মরদেহ। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা গতকাল এ তথ্য জানিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ঈদুল ফিতরের প্রথম দিনে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী শিশুসহ কমপক্ষে ৬৮ জনকে হত্যা করেছে বলে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

পুরো রমজান মাসই ফিলিস্তিনিদের কেটেছে দুঃসহ কষ্টে। গত ১ মার্চ ইসরায়েলের সঙ্গে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের প্রথম দফার যুদ্ধবিরতি শেষ হয়। এরপর গাজায় আবার হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। রোজার মধ্যেও খাদ্য সংকট দেখা দেয়। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারায় অনেকে। সেই থেকে অধিক কষ্টে ও অনাহারে কাটছে মানুষের জীবন।

হামাসের ওপর চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে গাজায় ত্রাণসহায়তা পৌঁছাতে দেয়নি ইসরায়েল। ফলে আবার গাজা ছেড়ে পালাতে হয়েছে অনেক পরিবারকে। এ অনাহার ও কষ্টের মধ্যেও ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি চলে। কিন্তু আনন্দ যেন গাজাবাসীর জন্য নয়। ফিলিস্তিনিরা বলছে, তাদের উদযাপনের কিছুই নেই।’

ইসরায়েল গত ১৮ মার্চ গাজায় নতুন করে হামলা শুরু করে। এতে সহস্রাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলা শুরুর পর থেকে এরই মধ্যে ইসরায়েলি হামলায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। নিহতদের অধিকাংশ নারী ও শিশু। এছাড়া কয়েক সপ্তাহ ধরে গাজা উপত্যকায় কোনো খাবার বা ত্রাণ প্রবেশ করতে পারেনি। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত অস্থিতিশীল।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শুরু থেকে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৫০ হাজার ২৭৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো ১ লাখ ১৪ হাজার ৯৫ জন। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস প্রায় দুই মাস আগে মৃতের সংখ্যার তথ্য হালনাগাদ করেছে। তাদের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গাজায় এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬১ হাজার ৭০০। হাজারো মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ রয়েছে। তাদেরও মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে দক্ষিণ গাজায় রাফার কাছে ইসরায়েলি হামলায় নিহত আট চিকিৎসক, পাঁচজন বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মী ও জাতিসংঘের একজন কর্মীর মরদেহ উদ্ধার করেছে প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (পিআরসিএস)। এ ঘটনায় ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি) নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, এ বিধ্বংসী ঘটনা ২০১৭ সালের পর বিশ্বের যেকোনো জায়গায় তাদের কর্মীদের ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা।