সাইপ্রাসে বিড়ালের মাঝে মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে
পড়েছে করোনাভাইরাস। মারা গেছে হাজার হাজার বিড়াল। এমন অবস্থায় সংক্রমণরোধে মাঠে নেমেছে
দেশটির সরকার। মানুষের জন্য তৈরি অ্যান্টি-কভিড পিল ব্যবহার হচ্ছে চতুষ্পদীগুলোর চিকিৎসায়।
আর বড়ির প্রথম চালান পৌঁছে গেছে সাইপ্রাসের পশু চিকিৎসাকেন্দ্রে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
দ্বীপটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে,
গত ৮ আগস্ট আন্তর্জাতিক বিড়াল দিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বড়ির প্রয়োগ শুরু হয়েছে। তাদের
আশা, এ প্রতিকারকের মাধ্যমে রোগটি পুরোপুরি নির্মূল হবে।
সরকারের ভেটেরিনারি সার্ভিস ডিরেক্টর ক্রিস্টোডুলস
পিপিস বলেন, ‘আমরা ৫০০ বক্স ওষুধ মজুদ করেছি। দুই হাজার প্যাকেজের মধ্যে এটি প্রথম
চালান। প্রতিটিতে ৪০টি ক্যাপসুল রয়েছে, তাই আমরা মোট ৮০ হাজার (অ্যান্টি-কভিড) বড়ির
কথা বলে রেখেছি।’
সাইপ্রাসে করোনাভাইরাস থেকে সৃষ্ট সংক্রামক
পেরিটোনাইটিস (এফআইপি) আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সময়মতো চিকিৎসা করা না হলে এ রোগ
মারাত্মক আকার ধারণ করে।
ভাইরাসটি সাইপ্রাসের রাজধানী নিকোসিয়াতে
চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রথম ধরা পড়ে। প্যানসিপ্রিয়ান ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশনের
(পিভিএ) তথ্য অনুসারে, তিন থেকে চার মাসের মধ্যে পুরো দ্বীপে ছড়িয়ে পড়ে।
এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা পিভিএ-এর
সহযোগিতায় এ প্রাদুর্ভাবের তদন্ত করেছে। সেখান থেকে জানা যাচ্ছে, গত ১২ সপ্তাহের মধ্যে
এফআইপি আক্রান্ত বিড়ালের সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ গুণ বেড়েছে।
ভেটেরিনারি ক্লিনিকাল প্যাথলজির সিনিয়র
লেকচারার ড. চারালামপোস অ্যাটিপা বলছেন, ‘আমাদের গবেষণায়
সম্ভাব্য মিউটেশন শনাক্ত করার ওপর জোর দিচ্ছি, যা অতি মারাত্মক এফকোভ স্ট্রেইনকে প্রতিহত
করতে পারবে।’
মিউটেটেড ফেলাইন ভাইরাসটি কভিড-১৯ এর সঙ্গে
সম্পর্কিত নয়। এমনকি তা মানুষের মাধ্যমে সংক্রামিত হয় না। তবে অ্যান্টি-কভিড ট্যাবলেটগুলোর
সক্রিয় উপাদান মলনুপিরাভির আক্রান্ত বিড়ালদের জন্য কার্যকরী বলে প্রমাণ হয়েছে।
সংক্রামিত বিড়ালের মলের মাধ্যমে এ ভাইরাস
ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৬০ এর দশকে প্রথমবার বিড়ালের করোনাভাইরাস রেকর্ড করা হয়। এফআইপির
প্রাদুর্ভাব বিরল হলেও এর আগে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, তাইওয়ান ও গ্রিসে ধরা পড়ে।










