৩ ডিসেম্বর সামরিক শাসন জারি করেছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল। তবে সংসদ সদস্যদের বিরোধিতায় মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই তা প্রত্যাহার করেন তিনি। সুক-ইওলের জন্য সিদ্ধান্তটি শুধু বড় ধরনের ভুলই নয় বরং প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার মেয়াদের পুরো সময়ের নানা সমস্যার প্রতিফলন। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
২০২২ সালের মার্চে সুক-ইওল যখন স্বল্প ব্যবধানে নির্বাচনে জয়ী হন, তখনও তিনি নানা কারণে বিতর্কিত ছিলেন। সাবেক প্রসিকিউটর থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা তিনি নিজেকে একজন শক্তিশালী রক্ষণশীল হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি লিঙ্গ সমতা বিষয়ক মন্ত্রণালয় বাদ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে, বিশেষ করে তরুণ পুরুষ ভোটারদের সমর্থন অর্জন করেন। পাশাপাশি দাবি করেন, দক্ষিণ কোরিয়ার নারীরা পদ্ধতিগত বৈষম্যের শিকার হন না।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিতর্কিত হতে শুরু করেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে গত দুই বছর তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল ৩৫ শতাংশ। স্ত্রী কিম কিওন-হি তার জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সমস্যা হয়ে ওঠেন। অবৈধ উপহার গ্রহণের অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। একজন যাজকের কাছ থেকে ৩০ লাখ ওনের (১ হাজার ৬৫৫ পাউন্ড) ডিওর ব্যাগ গ্রহণ ও শেয়ার কারচুপির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
তার প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল ২০২২ সালের অক্টোবরে ইতেওয়ানে জনতার ঢল মোকাবেলা করা। সে ঘটনায় ১৫৯ জন নিহত হন। ভুক্তভোগীদের পরিবারের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অপবাদ দিয়েছে। পাশাপাশি স্বাধীন তদন্তের আহ্বানকে বাধা দিয়েছে।
ইউন সুক-ইওলের মধ্যে কর্তৃত্ববাদী আচরণের প্রাথমিক লক্ষণ ছিল। ইউন তার বক্তৃতায় প্রায়ই স্বাধীনতার কথা বললেও তার প্রশাসন গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে ছিল। তারা নেতিবাচক কভারেজ নিয়ে গণমাধ্যম অফিস ও সাংবাদিকদের বাসায় তল্লাশি চালায় ও অনেক মানহানির মামলা করে।
এমনকি একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর কার্টুনে ইউনকে পলাতক ট্রেন হিসেবে চিত্রিত করার ঘটনায় তার সরকার সতর্কতা জারি করেছিল। ট্রেড ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব ক্রমেই বাড়তে থাকে। তার সামরিক আইন ঘোষণার বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের নেতৃত্বে ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণরা, বিশেষত নারীরা। তারা প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে কে-পপ লাইটস্টিক ব্যবহার করেছিলেন। সিওল ফেরি দুর্ঘটনা ও ইতেওয়ান ট্র্যাজেডির কারণে তরুণরা আগের প্রজন্মের শাসনের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলে। অন্যদিকে আগের প্রজন্মের নাগরিকরাও দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক শাসনের অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি এড়াতে চেয়েছিলেন।










