শেষ মুহূর্তে এসে ৪৫ দিনের জন্য তহবিল পাসে সম্মত হয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট ও নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ। এতে অচলাবস্থা এড়াতে পেরেছে বাইডেন প্রশাসন। এর আগে তহবিল পাস নিয়ে শাটডাউনের মুখে পড়তে বসেছিল যুক্তরাষ্ট্র। খবর বিবিসি।

শাটডাউন এড়াতে স্থানীয় সময় শনিবার হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভে বিলটি ৩৩৫-৯১ ভোটে পাস হয়। একই দিন সিনেটে পাস হয় ৮৮-৯ ভোটে। এতে রিপাবলিকানদের চেয়ে ডেমোক্র্যাটদের বেশি সমর্থন পায় বিলটি।

এখন শুধু প্রসিডেন্টের সই বাকি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিলটিতে সই করলে তা আইনে পরিণত হবে। বিলটি পাস হওয়ায় আরো দেড় মাসের তহবিল পাবে দেশটির কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো। ফলে আগামী ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ব্যয়ভার মেটানোর মতো অর্থ পাচ্ছে মার্কিন সরকার। এতে চাকরিচ্যুতির হাত থেকে রক্ষা পাবেন হাজার হাজার সরকারি ও সামরিক কর্মচারী।

সরকারকে তহবিল দেয়ার জন্য শনিবারের সময়সীমার ঠিক একদিন আগে বিলটি হাউজে পাস হতে ব্যর্থ হয়। এ অবস্থায় সরকারের শাটডাউন ঠেকাতে আয়োজন করা হয় ভোট। যেখানে পাস না হলে বেতন ছাড়াই কাজ করতে হতো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। অনেককে পাঠানো হতো ছুটিতে।

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ স্বল্পমেয়াদি তহবিল চুক্তিতে সম্মত হওয়ায় নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সরকারকে অর্থায়ন করা যাবে। তবে বিলটিতে ইউক্রেনের জন্য কোনো নতুন সহায়তা নেই বলে জানা গেছে।

গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে এটি হতে যাচ্ছিল চতুর্থ শাটডাউন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময় ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে তিনদিনের জন্য শাটডাউন ছিল যুক্তরাষ্ট্র। বাজেট-সংক্রান্ত একটি বিল পাস নিয়ে সিনেটররা একমত না হওয়ার ঘটনায় ওই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। ওই সময় জরুরি নয়, এমন সরকারি কর্মচারীদের সাময়িক ছুটি বা অস্থায়ী বিনা বেতনের ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। শাটডাউনের সময় জরুরি বিভাগ হিসেবে শুধু জনগণের সুরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিভাগগুলোকে খোলা রাখা হয়েছিল। এতে বেকার হয়ে পড়েছিলেন আট লাখ কর্মচারী।

এর আগে এক মাসের জন্য অস্থায়ীভাবে স্টপগ্যাপ বিলের প্রস্তাব করলেও নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির বিরোধিতায় তা পাসে ব্যর্থ হন হাউজ স্পিকার কেভিন ম্যাকার্থি।

অন্যদিকে, বিল উত্থাপনে ব্যর্থতার জেরে তাকে অপসারণের হুমকি দেন ক্ষমতাসীনরাও। পাস হওয়া বিলটিতে ইউক্রেনের জন্য আলাদা অর্থ বরাদ্দ না থাকায় তা যুদ্ধে ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে বলে দাবি ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাটদের। তবে কিয়েভকে সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

শাটডাউন হলে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পার্ক বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি ৪০ লাখ কেন্দ্রীয় কর্মীর বেতন-ভাতা পরিশোধ বন্ধ হয়ে যেত। সেই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যেত আর্থিক খাতের নজরদারি থেকে বৈজ্ঞানিক গবেষণার তহবিলও।

মাত্র চার মাস আগে জাতীয় ঋণসীমা বৃদ্ধি নিয়ে দেশটির প্রধান দুই রাজনৈতিক দল যেভাবে পরস্পরের মুখোমুখি অবস্থানে চলে গিয়েছিল, তখনো এ শাটডাউনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। তখন তা এড়ানো গেলেও এর জেরে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণমানে প্রভাব পড়েছে। এছাড়া ক্ষুণ্ন হয়েছে দেশটির ভাবমূর্তিও।