উত্তর গাজা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ উপেক্ষা
করে যারা ওই এলাকায় থেকে যাবেন তাদের ‘সন্ত্রাসীদের
সহযোগী’ হিসেবে বিবেচনা
করা হবে। গতকাল শনিবার (২১ অক্টোবর) এ ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। খবর আনাদোলু
এজেন্সি।
অবরুদ্ধ গাজায় ফিলিস্তিনিদের উত্তর থেকে
দক্ষিণ অঞ্চলে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা। চলমান হামলা আরো জোরদানের লক্ষ্যে
এমন ঘোষণা দিয়েছে।
এক বিবৃতিতে বলা হয়, গাজা উপত্যকার উত্তরে
অবস্থান করলেন নিজেকে বিপদের মধ্যে ফেলবেন। কেউ যদি উপত্যকার দক্ষিণে না যান ও উত্তরাঞ্চলে
থাকার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তাকে সন্ত্রাসী সংগঠনের সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এর আগে গতকাল বোমা হামলার প্রস্তুতি হিসেবে
অবিলম্বে আল-কুদস হাসপাতাল খালি করার নির্দেশ দেয় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। উত্তর
গাজার ২০টি হাসপাতালকেও একই নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
হামাস ‘অপারেশন আল-আকসা
ফ্লাড’ শুরু করলে গত
৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ ও অবরোধের অধীনে রয়েছে গাজা। হামলার কারণ হিসেবে
হামাস জানিয়েছিল, আল-আকসা মসজিদে হামলা ও ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান
সহিংসতার প্রতিশোধ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এরপর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজা
উপত্যকায় হামাসের লক্ষ্যবস্তুগুলোর বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সোর্ডস
অব আয়রন’ শুরু করে।
ক্রম বর্ধমান হামলায় ভয়ানক মানবিক সংকটের
মুখে রয়েছে গাজা। বিদ্যুৎবিহীন এ অঞ্চলে শেষ হয়ে আসছে পানি, খাদ্য, জ্বালানি ও চিকিৎসা
সরবরাহ।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ‘মানবিক দুর্ভোগ
কমাতে’ অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা
দেশের সমর্থনপুষ্ট ইসরায়েলের পক্ষ থেকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে
না।
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এক হাজার ৭৫৬
শিশু ও এক হাজার নারীসহ কমপক্ষে চার হাজার ৩৮৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে
ইসরায়েলে এই সংখ্যা এক হাজার ৪০০ জনেরও বেশি।









