আকস্মিক আক্রমণের মাত্র তিন দিনের মাথায় সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পোর কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বিদ্রোহী বাহিনী। তারা দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পোর কয়েকটি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস। খবর বিবিসি।
সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদ্রোহীরা শহরের অর্ধেকের বেশি অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
বিদ্রোহীদের আলেপ্পো শহর দখলের ঘটনাটি সরকারের বিরুদ্ধে বছরের সবচেয়ে বড় আক্রমণ। ২০১৬ সালে শহরটি থেকে বিদ্রোহীদের বিতাড়িত করেছিল প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বাহিনী। ৮ বছর পর হঠাৎ করে আবারও এই শহরটিতে ঢুকে পড়েছে বিদ্রোহীরা।
ইসলামপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শামের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি চ্যানেলে পোস্ট করা এক ভিডিওতে শহরের ভেতরে যানবাহনে থাকা বিদ্রোহী যোদ্ধাদের দেখা গেছে। বার্তা সংস্থা বিবিসি ভিডিওটি থেকে শনাক্ত করেছে যে জায়গাটি আলেপ্পোর পশ্চিম উপশহর।
এদিকে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী বলেছে, হায়াত তাহরির আল-শাম এবং এর মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বুধবারে শুরু করা আক্রমণের পর আলেপ্পো এবং ইদলিব প্রদেশের কয়েকটি শহরে অবস্থান পুনরুদ্ধার করেছে তারা।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে আরব বসন্তের সময় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভের পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। সে সময় দেশটির বিদ্রোহী বাহিনীগুলো ফ্রি সিরিয়ান আর্মি গঠন করেছিল।
সিরিয়ার গৃহযুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশ ও আঞ্চলিক শক্তিগুলো, যেমন—সৌদি আরব, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া ছায়াযুদ্ধের মাধ্যমে এই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। গৃহযুদ্ধের একপর্যায়ে সিরিয়ায় আইএসআইএস জঙ্গিরা আধিপত্য বিস্তার করলেও পরবর্তীতে তাদেরকে সেখান থেকে বিতাড়িত করা হয়।
২০২০ সালে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর সিরিয়ার সংঘর্ষ স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে কিছু ক্ষেত্রে বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ স্বল্প মাত্রায় অব্যাহত ছিল।
২০১১ সালে গণতন্ত্রপন্থী প্রতিবাদের ওপর সরকারি দমন অভিযানের পর শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে অর্ধ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ঘর-বাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ।










