ইউক্রেনকে দীর্ঘমেয়াদি অস্ত্রসহায়তা হিসেবে আরো প্রায় ১০০ কোটি ডলার দেবে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব লয়েড অস্টিন বলেছেন, ‘এ সহায়তার আওতায় ড্রোন, হাইমোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেমের (হিমার্স) গোলাবারুদসহ বিভিন্ন উন্নত অস্ত্র থাকবে। বাইডেন প্রশাসন ইউক্রেনের সামরিক শক্তি বাড়ানোর জন্য কংগ্রেস অনুমোদিত অবশিষ্ট তহবিল দ্রুত ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।’ খবর এপি।
অস্টিন আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘খুব তাড়াতাড়িই দায়িত্ব অন্যদের হাতে যাবে। তারা আমাদের তৈরি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর কাজ চালিয়ে যাবে।’
ইউক্রেন বর্তমানে রাশিয়ার তীব্র আক্রমণের মুখোমুখি। কুরস্ক অঞ্চল পুনর্দখলের জন্য রাশিয়া হাজার হাজার উত্তর কোরিয়ার সেনা মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি কিয়েভের বেসামরিক এলাকাগুলোয়ও নিয়মিত হামলা চালানো হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র সোমবার নতুন ৯৮ কোটি ৮০ লাখ ডলারের সামরিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, যা পূর্বে ঘোষিত ৭২ কোটি ৫০ লাখ মিলিয়ন সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এ সহায়তায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কাউন্টার-ড্রোন সিস্টেম ও হিমার্স মিউনিশন। এসব পেন্টাগনের স্টকপাইল থেকে সরবরাহ করা হবে, যাতে দ্রুত ফ্রন্টলাইনে পৌঁছানো যায়।
২০২২ সালে রাশিয়া আক্রমণ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে ৬ হাজার ২০০ কোটি ডলারের বেশি সামরিক সহায়তা দিয়েছে। অস্টিন উল্লেখ করেন, ‘আমরা ইউক্রেনকে সমর্থন দিয়ে রাশিয়ার বৃহত্তম সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে তাদের টিকে থাকতে সাহায্য করছি।’
সম্প্রতি প্যারিসে নটর ডেম ক্যাথেড্রালের পুনরায় উদ্বোধনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে আলোচনা করেন। ইউরোপীয় নেতারা ট্রাম্পকে ইউক্রেনের জন্য সমর্থন অব্যাহত রাখতে রাজি করানোর চেষ্টা করছেন।
তবে ট্রাম্প তার আমেরিকা ফার্স্ট নীতির আওতায় ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। এতে ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ সহায়তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
অস্টিন উল্লেখ করেছেন, পুতিনকে থামানো সম্ভব নয়, যদি না আমরা ইউক্রেনকে সহায়তা বন্ধ করি। তিনি ইউক্রেন ডিফেন্স কন্ট্যাক্ট গ্রুপকে ১৯৯০ সালে কুয়েতে ইরাকের আগ্রাসনের সময় তৈরি বৈশ্বিক জোটের মতোই গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহ ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়ক হচ্ছে। অস্টিন ও সিনেটর মিচ ম্যাককনেল এ ধরনের বৈশ্বিক মিত্রতা ও জোট গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।










