অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহন করা একটি ডিঙি নৌকা ইংলিশে চ্যানেলে ডুবে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নৌকাডুবির ঘটনায় কয়েক ডজন মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) এই দুর্ঘটনা ঘটে। খবর আল জাজিরার।
অঞ্চলটির দায়িত্বে থাকা ফরাসি সংস্থার মুখপাত্র ইতিয়েন বাজ্জিও জানান, নৌকাটি যে স্থানে ডুবেছিল সেখানে চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা অনুসন্ধানে উদ্ধারকারীরা মোট ৬৫ জনকে ইংলিশ চ্যানেল থেকে উদ্ধার করেছে। তিনি বলেন, চিকিৎসকরা ১২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আরো ১২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং দু'জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে।
নৌকাটির তলা ফেটে গেছে বলে জানান লা পোর্টেল শহরের মেয়র অলিভিয়ার বারবারিন। এছাড়া, ইতিয়েন বাজ্জিও এ দুর্ঘটনাকে এ বছরের ইংলিশ চ্যানেলে সবচেয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, নৌকায় থাকা অনেকেরই লাইফ ভেস্ট ছিল না। নৌকাটির তলা কীভাবে ফেটে গেল বা এটি কী ধরনের নৌকা ছিল তা এখনি পরিষ্কার নয়। কেউ কেউ রাবারের ডিঙি নৌকায় এই চ্যানেল পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করেন।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানিয়েছে যে, ডুবে যাওয়া নৌকাটি বোলোনিয়া-সুর-মার এবং কালাইস বন্দরের উত্তরের মধ্যে গ্রি-নেজ পয়েন্টের কাছে ডুবে গিয়েছিল।
ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানিন বোলোনিয়া-সুর-মার পরিদর্শনে যান। তিনি বলেন, নৌকাটি নাজুক এবং ছোট ছিল। এটি ৭ মিটারের (২৩ ফুট) চেয়েও ছোট এবং পাচারকারীরা এমন নৌকায় যত বেশি সম্ভব মানুষকে নেয়ার চেষ্টা করে। তিনি বলেন, নৌকায় থাকা বেশিরভাগ লোকই ইরিত্রিয়া থেকে এসেছেন এবং ভুক্তভোগীদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার এই মৃত্যুকে ‘ভয়াবহ এবং গভীরভাবে দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। এক বিবৃতিতে, কুপার এই ভয়াবহ এবং নির্মম মানব পাচারের ব্যবসার পেছনে থাকা চক্রগুলোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, তারা যা করে তা কেবল তাদের লাভের জন্য করে, মানুষের জীবন নিয়ে তাদের কোনো চিন্তা নেই।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এ বছর যুক্তরাজ্যে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় কমপক্ষে ৩০ জন শরণার্থী এবং অভিবাসী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গতকাল মঙ্গলবারের হালনাগাদ করা তথ্য অনুযায়ী, গত সাত দিনে ছোট নৌকায় করে ২ হাজার ১০৯ জন ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করেছেন।










