গত সপ্তাহে গাজায় আক্রান্ত হয়েছে গ্রিক অর্থোডক্স পোরফিরাস গির্জা ও একটি অ্যাংলিকান হাসপাতাল। ব্যাপক হতাহতের এ দুই ঘটনাকে ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন পোপ ফ্রান্সিস। গতকাল রোববার (২২ অক্টোবর) খ্রিস্টানদের এক ধর্মীয় সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর আনাদোলু এজেন্সি।

এ ধর্মীয় গুরু বলেন, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনে কী ঘটছে তা আমি দেখছি। এতে আমি দুঃখ পেয়েছি, হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রার্থনা করছি। যারা বন্দি আছেন ও তাদের পরিবারের জন্য সমবেদনা প্রকাশ করছি। আমি গাজার মানবিক শোচনীয় অবস্থা নিয়ে বেশ চিন্তিত। বিশেষ করে গির্জা ও হাসপাতালে হামলা আমাকে দগ্ধ করেছে।

অবশ্য গির্জা ও হাসপাতালে হামলাকারী হিসেবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর উল্লেখ ছিল না তার মন্তব্যে।

গাজায় মানবিক সহায়তার পথ খুলে দেয়ার আহ্বানও জানান পোপ। তিনি বলেন, মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে ও জিম্মিদের মুক্ত করে দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

ঐতিহাসিক কারণে ব্যাপটিস্ট হাসপাতাল নামে পরিচিত হামলার শিকার আল-আহলি হাসপাতাল। এটি ১৯৮০ এর দশকের শুরু থেকে অ্যাংলিকান চার্চ বা চার্চ অব ইংল্যান্ডের অধীনে ছিল।

এদিকে গত ১৯ অক্টোবর ইসরায়েলি বোমার আঘাতে ঐতিহ্যবাহী গ্রিক অর্থোডক্স পোরফিরিয়াস চার্চ ধ্বংস হয়ে যায়। এসময় এক ডজনের বেশি মানুষ নিহত হন, আহত হন আরো অনেকেই।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ কুদরা পরে জানায়, গির্জায় সরাসরি হামলা করেছে ইসরায়েল। নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৬ জন ফিলিস্তিনি খ্রিস্টান রয়েছেন।

হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধের পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গেও টানেন পোপ ফ্রান্সিস। তিনি মনে করেন, যেকোনো যুদ্ধই সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য একটি বড় ক্ষত।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ১৭ অক্টোবর ইসরায়েলি বিমান হামলায় হাসপাতালে আশ্রয় নেয়া অন্তত ৪৭১ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে। ফরেনসিক প্রমাণ থাকা সত্বেও ইসরায়েল এই হামলার দায় অস্বীকার করে আসছে, তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যাচ্ছে পশ্চিমা মিত্ররা।

গতকাল হোয়াইট হাউজ ও ভ্যাটিকান পৃথক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও পোপ ফ্রান্সিস ইসরায়েল-হামাস সংঘাত নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ সময় ক্যাথলিক বাইডেন সংঘাতের জন্য হামাসকে দায়ী করেন।

এদিকে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকটে প্রতিদিন আহতের সংখ্যা বাড়ায় বিপাকে পড়েছে গাজার হাসপাতালগুলো। উত্তরাঞ্চলের ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতালের পরিচালক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আমরা ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকটে ভুগছি। এছাড়া ব্যাপক অভিযানকে সামনে রেখে এরই মধ্যে গাজার হাসপাতালগুলো খালি করার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল।

গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর গত দুই সপ্তাহ যাবৎ ইসরায়েল বেসামরিক গাজাবাসীর ওপর হামলা চালিয়ে আসছে। এতে অন্তত চার হাজার ৬৫১ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও ১৪ হাজার ২৪৫ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলি পক্ষে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ৪০০ এর বেশি।